কালুখালীর সূর্য দিয়া গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নিকজান বেগমের
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য দিয়া গ্রামের নিকজান বেগমের নেই থাকার মতো একটি বসতঘর। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে ছেঁড়া পলিথিন ও বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ছাউনির নিচেই দিন-রাত কাটছে তার।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে সূর্য দিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে বাঁশ ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছাউনি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন নিকজান বেগম। বর্ষায় ছাউনির ভেতর পানি পড়ে, শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় নানা দুর্ভোগের মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

নিকজান বেগম বলেন, “বাবা বেঁচে নাই, স্বামীও নাই। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ঘর বানানোর মতো টাকা আমার নেই। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাহলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাথী পারভীন জানান, নিকজান বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার কোনো জমি-জমা নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ মাঝেমধ্যে তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এলাকাবাসী জানান, নিকজান বেগমের মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরও নেই। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দুর্যোগের সময় তাকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তার জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে অন্তত নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পাবেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, অসহায় নিকজান বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।






















