Dhaka ১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 9

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, রাজনীতিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও রেললাইন থেকে আনা পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল রয়েছেন। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং স্থানীয় তিন সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০

প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, রাজনীতিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও রেললাইন থেকে আনা পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল রয়েছেন। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং স্থানীয় তিন সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।