উজানের ঢল অব্যাহত, বন্যা আতঙ্কে তিস্তাপারের মানুষ
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 7
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাটের তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গতকালের তুলনায় পানি কমেছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশের ডালিয়া ব্যারাজ থেকে মাত্র ৬৮ কিলোমিটার উজানে ভারত-নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজ অবস্থিত। বাংলাদেশ অংশে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় প্রবল বৃষ্টির কারণে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন চড়ের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, ‘ভারতে বন্যা হলেই তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটায়, কারণ তাদের দেশের পানি পরিস্থিতি সামাল দিতে গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে পানি বাংলাদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়, এ কারণে, আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি।’
অপর কৃষক শহীদার রহমান বলেন, ‘ভোটের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেও ভোট শেষে নেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ আর কোন আশ্বাস নয়, তিস্তা নদীপাড়ের অসহায় মানুষগুলো বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এদিকে গত তিন দিন ধরে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু ও সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী অ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে পানি বিপদসীমার কাছে পৌঁছানোয় তিস্তাপারের মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।






















