কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩
- প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 13
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) ডিবি সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার মোস্তবাপুর গ্রামের মোসলেম হোসেনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি মেহেদী হাসান ওরফে সান্টুর কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন।
তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ফরাসপুর এলাকা থেকে মেহেদী হাসান ওরফে সান্টুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজ কুমার বিশ্বাস ওরফে জসিমের কাছ থেকে কোনো কাগজপত্র ছাড়া ৭০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে অবস্থিত ‘জসিম মোটরসাইকেল সেন্টার’ থেকে রাজ কুমার বিশ্বাস ওরফে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাসের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী বেনাপোল এলাকা থেকে কম দামে চোরাই মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।
ডিবির তদন্তে আরও জানা যায়, প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাসের ‘মেহেরিন অটো পার্টস সেন্টার’ নামের গ্যারেজে একটি পুরোনো কালো রঙের ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল রাখা ছিল। রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হলে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রসেনজিৎ মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে চাবি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তঘেঁষা এলাকা দিয়ে চোরাই মোটরসাইকেল প্রবেশ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও এ বিষয়ে কার্যকর অভিযান খুব কমই দেখা গেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে ওই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক শনাক্ত ও এর উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত চলমান রয়েছে।
























