Dhaka ১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 96

 

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহনকারী হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, বরং মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতির ফলে এর ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বিপণন ও রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

তার সক্রিয় ভূমিকার ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাওয়ার পথে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহনকারী হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, বরং মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতির ফলে এর ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বিপণন ও রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

তার সক্রিয় ভূমিকার ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাওয়ার পথে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।