Dhaka ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু যাত্রা ও সার্কাস শিল্পকে অশ্লীলতামুক্ত করে নিজস্ব গৌরবে ফিরিয়ে আনতে হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিকদের ক্ষোভ পোরসায় আমের আড়তে জমজমাট বেচাকেনা সূচকের ঊর্ধ্বগতি, ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা জেলা-উপজেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পোরসায় আমের আড়তে জমজমাট বেচাকেনা

খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 32

নওগাঁর পোরসা উপজেলার নোচনাহার বাজারের আমের আড়তগুলোতে এখন জমে উঠেছে আম বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এখানে এসে বিভিন্ন জাতের আম কিনছেন। আমের জাত ও গুণগত মানভেদে প্রতি মণের দাম এক হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পোরসা উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত নোচনাহার বাজারের আমের আড়তগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়তদার সমিতির পক্ষ থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি আড়তদারদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও রয়েছে।

নোচনাহার আম আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি পাইকার এখানে আম কিনতে আসেন। কারণ অন্যান্য এলাকার তুলনায় নোচনাহার আমের আড়তে ক্রেতা ও বিক্রেতারা বেশি সুবিধা পান।

স্থানীয় আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, “এখানে ওজন ও দরদাম নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয় না। অন্য অনেক জায়গায় ৪৮ থেকে ৫২ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও পোরসায় ৪০ কেজিতেই এক মণ ধরা হয়। এছাড়া আড়তদার সমিতির নজরদারি থাকায় কৃষকরা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।”

ঢাকার বাদামতলী থেকে আসা পাইকার মো. শাহ আলম বলেন, “নোচনাহার বাজারে নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ খুবই ভালো। আমের মূল্য ও ওজন নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। তবে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় আমের দামও বেড়ে যায়।”

তিনি অভিযোগ করেন, মোকাম থেকে ট্রাকে আম লোড করার পর শ্রমিক সংগঠনের নামে ছোট ও বড় ট্রাকভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। ঢাকা পর্যন্ত যাওয়ার পথে কয়েকটি স্থানে এমন চাঁদা দিতে হয়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাকচালক মো. রাসেল বলেন, “মোকাম থেকে বগুড়া পৌঁছানোর আগেই তিন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় খারাপ আচরণের শিকার হতে হয়।”

এ বিষয়ে পোরসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান এবং নওগাঁ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মন জানান, আমের মৌসুমে নোচনাহার আড়ত এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তারা আরও জানান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামও মাঝে মধ্যে গভীর রাতে নিজে বিভিন্ন সড়ক ও আড়ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ট্রাক শ্রমিকদের চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পোরসায় আমের আড়তে জমজমাট বেচাকেনা

প্রকাশের সময় : ০৯:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নওগাঁর পোরসা উপজেলার নোচনাহার বাজারের আমের আড়তগুলোতে এখন জমে উঠেছে আম বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এখানে এসে বিভিন্ন জাতের আম কিনছেন। আমের জাত ও গুণগত মানভেদে প্রতি মণের দাম এক হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পোরসা উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত নোচনাহার বাজারের আমের আড়তগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়তদার সমিতির পক্ষ থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি আড়তদারদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও রয়েছে।

নোচনাহার আম আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি পাইকার এখানে আম কিনতে আসেন। কারণ অন্যান্য এলাকার তুলনায় নোচনাহার আমের আড়তে ক্রেতা ও বিক্রেতারা বেশি সুবিধা পান।

স্থানীয় আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, “এখানে ওজন ও দরদাম নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয় না। অন্য অনেক জায়গায় ৪৮ থেকে ৫২ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও পোরসায় ৪০ কেজিতেই এক মণ ধরা হয়। এছাড়া আড়তদার সমিতির নজরদারি থাকায় কৃষকরা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।”

ঢাকার বাদামতলী থেকে আসা পাইকার মো. শাহ আলম বলেন, “নোচনাহার বাজারে নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ খুবই ভালো। আমের মূল্য ও ওজন নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। তবে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় আমের দামও বেড়ে যায়।”

তিনি অভিযোগ করেন, মোকাম থেকে ট্রাকে আম লোড করার পর শ্রমিক সংগঠনের নামে ছোট ও বড় ট্রাকভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। ঢাকা পর্যন্ত যাওয়ার পথে কয়েকটি স্থানে এমন চাঁদা দিতে হয়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাকচালক মো. রাসেল বলেন, “মোকাম থেকে বগুড়া পৌঁছানোর আগেই তিন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় খারাপ আচরণের শিকার হতে হয়।”

এ বিষয়ে পোরসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান এবং নওগাঁ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মন জানান, আমের মৌসুমে নোচনাহার আড়ত এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তারা আরও জানান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামও মাঝে মধ্যে গভীর রাতে নিজে বিভিন্ন সড়ক ও আড়ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ট্রাক শ্রমিকদের চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।