Dhaka ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘শহীদ কামরুল স্মারক’ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী যশোরের শার্শায় ৬ বছরের শিশু ধর্ষন চেষ্টায় অভিযুক্ত আটক বালিয়াকান্দিতে ৫ দিনব্যাপী স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন কালীগঞ্জে চোরাই ছাগল উদ্ধার, চোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার নওগাঁয় মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত, কৃতিত্বপূর্ণ পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান ভাতিজার স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে উধাও চাচি কালুখালীতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালুখালীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, হাইজিন উপকরণ ও হারমোনিয়াম বিতরণ পরীক্ষার ভেতর চাকরি করতে হবে না ইকনকে, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 87

তীব্র গরমে ঘরে ফিরে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর পর অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা পেতে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। কিন্তু প্রায় সব এসিতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যায় না। এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির মূল কাজ হলো ঘরের গরম বাতাস শোষণ করে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করা। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইভ্যাপোরেটর, যা রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্টের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে বাতাসকে শীতল করে।

যদি এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে নামানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এতে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতো এবং কুলিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত না। ফলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে এসির ভেতরেই বরফ জমে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

এই ঝুঁকি এড়াতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এসির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, এসির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে আরামদায়ক অনুভব করে। এর বেশি তাপমাত্রা দিলে কুলিং প্রভাব কার্যত কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এসি ঠিকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্যকর কুলিংয়ের জন্য এসির আদর্শ তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেঞ্জে ঘর যেমন আরামদায়ক থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।

সব মিলিয়ে, এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে না নামার বিষয়টি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি যন্ত্রের নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ

প্রকাশের সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে ঘরে ফিরে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর পর অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা পেতে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। কিন্তু প্রায় সব এসিতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যায় না। এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির মূল কাজ হলো ঘরের গরম বাতাস শোষণ করে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করা। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইভ্যাপোরেটর, যা রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্টের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে বাতাসকে শীতল করে।

যদি এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে নামানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এতে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতো এবং কুলিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত না। ফলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে এসির ভেতরেই বরফ জমে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

এই ঝুঁকি এড়াতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এসির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, এসির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে আরামদায়ক অনুভব করে। এর বেশি তাপমাত্রা দিলে কুলিং প্রভাব কার্যত কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এসি ঠিকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্যকর কুলিংয়ের জন্য এসির আদর্শ তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেঞ্জে ঘর যেমন আরামদায়ক থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।

সব মিলিয়ে, এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে না নামার বিষয়টি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি যন্ত্রের নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা।