নেইমারের স্বপ্ন, মেসির মিশন, রোনালদোর শেষ লড়াই
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 10
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও দেখা যাবে তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারকে। অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে তাদের শেষ বিশ্বকাপ। তাই এবারের আসর শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বরং একটি স্বর্ণালী ফুটবল যুগের শেষ অধ্যায়ের সাক্ষীও হতে পারে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, শিরোপা ও স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন এই তিন তারকা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সামনে এবার ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। বয়স, ফিটনেস ও প্রত্যাশার চাপ—সবকিছু নিয়েই নামতে হবে মাঠে।
৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন থামতে জানেন না। সময়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এখনও একই উদ্দীপনা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে খেলছেন তিনি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় সব অর্জন থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এবারের আসরে হয়তো শেষবারের মতো লড়াইয়ে নামবেন পর্তুগিজ মহাতারকা। শক্তিশালী স্কোয়াডও তাকে নতুন করে আশা জোগাচ্ছে।
অন্যদিকে লিওনেল মেসি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন। তবে তার লক্ষ্য এখন শিরোপা ধরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ ও মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা মেসির জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, তবুও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা এখনও তিনি।
নেইমারের গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা ব্রাজিলিয়ান তারকা এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। সাম্প্রতিক চোট তার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলেছে। এমনকি টুর্নামেন্টের শুরুতেই তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
তবে নেইমার এমন একজন ফুটবলার, যিনি নিজের সেরা দিনে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ব্রাজিলের সমর্থকরাও সেই আশাতেই আছেন। কারণ, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি সেলেসাওরা। সাম্প্রতিক আসরগুলোতেও তারা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
দলগত শক্তির দিক থেকে মেসি কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। জুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজসহ তরুণ ফুটবলারদের উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। অন্যদিকে পর্তুগালও রোনালদোকে ঘিরে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা অত্যন্ত কঠিন। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। ফলে মেসির সামনে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ। আর নেইমারের জন্য এটি হতে পারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর মঞ্চ।
বিশ্বকাপ বরাবরই অনিশ্চয়তা, চমক ও নাটকীয়তায় ভরা। তাই শেষ পর্যন্ত কে শিরোপা জিতবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই বিশ্বকাপ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, বরং ফুটবলের তিন মহাতারকার উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে মূল্যায়নের উপলক্ষও বটে।
সূত্র: স্পোর্টসকেডা






















