‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, কারা পাবেন না
- প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 171
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এতে এক অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সে হিসাবে অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কারা পাবেন
ফ্যামিলি কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশ লাগবে। গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার, শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।
যেসব পরিবারের ঘরের দেয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলোও অগ্রাধিকার পাবে। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা থাকলেও কৃষিযোগ্য জমি না থাকলে তাদেরও ভূমিহীন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সমন্বয় করে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কারা পাবেন না
একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীকেও বাদ দেওয়া হবে।
যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তি ব্যবহার
অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের জন্য এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে সংরক্ষিত ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য দিয়ে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ এবং পরবর্তী চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করা গেলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।























