Dhaka ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টক অব দ্য টাউন

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে ভাসছে কুমির

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 153

 রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি কুমির ভাসছে। গত দুদিন কুমিরটি উড়াকান্দা এলাকার তিন থেকে পাঁচশ মিটারের মধ্যে বিচরণ করছে। কেউ কেউ কুমিরটিকে দেখেছে বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কুমিরের ছবি ঘুরছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন বিষয়টি তারা শুনেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে নদীতে না নামার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছে।

বুধবার উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি নৌকা ঘাটে বাঁধা রয়েছে। নারী-পুরুষ নদীতে গোসল করছে। তবে, নদীতে মাছ ধরার নৌকা দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, তারা শুনেছেন উড়াকান্দার দেওয়ানপাড়া স্কুলের পেছনে পদ্মা নদীতে কুমির দেখা গেছে।

উড়াকান্দার বাসিন্দা রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি শুনতে পান নদীতে কুমিড় দেখা গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী দেখেছে। বিষয়টি শোনার পর তিনি নদী পাড়ে কুমির দেখার জন্য বসেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে নদীতে ভেসে ওঠে কুমিরটি। কুমিরটি লম্বায় ছয় থেকে সাত ফুট হবে।

নদীর ওপাড়ের বাসিন্দা পেশায় মৎস্যজীবী আবুল হোসেন জানান,  তিনি শুনেছেন পদ্মায় নাকি কুমির এসেছে। তার বয়স ৮০ ছুই ছুই। এই প্রথম শুনলেন পদ্মা নদীতে কুমির আছে।

মনোয়ারা বেগম নামে, এক গৃহবধূ জানান, তিনি নিয়মিত নদীতে গোসল করেন। কুমিরের কথা শুনে নদীতে নামতে একটু ভয় ভয় করছে। যদিও অনেকেই গোসল করছে। তাই তিনিও একটু পড়ে গোসল করতে যাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, সোমবার নদীতে প্রথম এক নারী কুমির দেখতে পান। মঙ্গলবারও কুমিরটি ভেসে উঠেছিল। বুধবার আর দেখা যায়নি। তারা বলেন, অনেকে ভয় নিয়ে নদীতে নামছেন। আবার কেউ কেউ বলছে যা হবার হবে। কুমিরের পেটে মৃত্যু থাকলে হবে।

উড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বরাট ইউনিয়ন জেলে সমিতির সভাপতি ইউনুস মন্ডল জানান, তাদের একজন সহকর্মী বুধবার সকালেই জানিয়েছে, সকালে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে নদীর মাঝখানে পানির গোলাকৃতির বুদবুদ ছাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে ওখানে কুমির ছিল। এখন নদীতে নামতে অনেকেই ভয় পাচ্ছে।

রাজবাড়ীর সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সানজিদা সুলতানা জানান, বুধবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বন বিভাগের লোক সারাক্ষণ সেখানে নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত কুমিরটিকে দেখা যায়নি। তথাপিও তারা সতর্কতার জন্য সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে দেবেন। তিনি বলেন, কুমির সাধারণত গভীর পানিতে থাকে। যেখানে কুমিরটি দেখা গেছে সেখানে পানির গভীরতা আছে। যেখানে খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে কুমির সাধারণত সেখানে বিচরণ করে। আবার কিছুদিন পরে চলে  যায়। খাবারের সন্ধানে হয়ত কুমিরটি এখানে এসেছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায় বলেন, পদ্মা নদীর উড়াকান্দা এলাকায় কুমির দেখা গেছে গত মঙ্গলবার এমনটি জানার পর প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন বিভগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সেখানকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। সেখানে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত নদীতে না নামার জন্য বলা হয়েছে। বুধবার সেখানে কুমির দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টক অব দ্য টাউন

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে ভাসছে কুমির

প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি কুমির ভাসছে। গত দুদিন কুমিরটি উড়াকান্দা এলাকার তিন থেকে পাঁচশ মিটারের মধ্যে বিচরণ করছে। কেউ কেউ কুমিরটিকে দেখেছে বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কুমিরের ছবি ঘুরছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন বিষয়টি তারা শুনেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে নদীতে না নামার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছে।

বুধবার উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি নৌকা ঘাটে বাঁধা রয়েছে। নারী-পুরুষ নদীতে গোসল করছে। তবে, নদীতে মাছ ধরার নৌকা দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, তারা শুনেছেন উড়াকান্দার দেওয়ানপাড়া স্কুলের পেছনে পদ্মা নদীতে কুমির দেখা গেছে।

উড়াকান্দার বাসিন্দা রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি শুনতে পান নদীতে কুমিড় দেখা গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী দেখেছে। বিষয়টি শোনার পর তিনি নদী পাড়ে কুমির দেখার জন্য বসেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে নদীতে ভেসে ওঠে কুমিরটি। কুমিরটি লম্বায় ছয় থেকে সাত ফুট হবে।

নদীর ওপাড়ের বাসিন্দা পেশায় মৎস্যজীবী আবুল হোসেন জানান,  তিনি শুনেছেন পদ্মায় নাকি কুমির এসেছে। তার বয়স ৮০ ছুই ছুই। এই প্রথম শুনলেন পদ্মা নদীতে কুমির আছে।

মনোয়ারা বেগম নামে, এক গৃহবধূ জানান, তিনি নিয়মিত নদীতে গোসল করেন। কুমিরের কথা শুনে নদীতে নামতে একটু ভয় ভয় করছে। যদিও অনেকেই গোসল করছে। তাই তিনিও একটু পড়ে গোসল করতে যাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, সোমবার নদীতে প্রথম এক নারী কুমির দেখতে পান। মঙ্গলবারও কুমিরটি ভেসে উঠেছিল। বুধবার আর দেখা যায়নি। তারা বলেন, অনেকে ভয় নিয়ে নদীতে নামছেন। আবার কেউ কেউ বলছে যা হবার হবে। কুমিরের পেটে মৃত্যু থাকলে হবে।

উড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বরাট ইউনিয়ন জেলে সমিতির সভাপতি ইউনুস মন্ডল জানান, তাদের একজন সহকর্মী বুধবার সকালেই জানিয়েছে, সকালে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে নদীর মাঝখানে পানির গোলাকৃতির বুদবুদ ছাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে ওখানে কুমির ছিল। এখন নদীতে নামতে অনেকেই ভয় পাচ্ছে।

রাজবাড়ীর সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সানজিদা সুলতানা জানান, বুধবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বন বিভাগের লোক সারাক্ষণ সেখানে নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত কুমিরটিকে দেখা যায়নি। তথাপিও তারা সতর্কতার জন্য সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে দেবেন। তিনি বলেন, কুমির সাধারণত গভীর পানিতে থাকে। যেখানে কুমিরটি দেখা গেছে সেখানে পানির গভীরতা আছে। যেখানে খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে কুমির সাধারণত সেখানে বিচরণ করে। আবার কিছুদিন পরে চলে  যায়। খাবারের সন্ধানে হয়ত কুমিরটি এখানে এসেছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায় বলেন, পদ্মা নদীর উড়াকান্দা এলাকায় কুমির দেখা গেছে গত মঙ্গলবার এমনটি জানার পর প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন বিভগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সেখানকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। সেখানে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত নদীতে না নামার জন্য বলা হয়েছে। বুধবার সেখানে কুমির দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।