নালা বন্ধ, দুর্ভোগে ব্যবসায়ী-ক্রেতারা
সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় রাজবাড়ীর বড় বাজার
- প্রকাশের সময় : ০৩:২৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায় রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারের বিভিন্ন সড়ক। নোংরা পানি মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের। একটু ভারী বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে দোকানেও। দীর্ঘদিন ধরে নালা পরিষ্কার ও সংস্কার না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
রাজবাড়ী বড় বাজারের ফল, চাউল, মাছ ও চুরি বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। সরেজমিনে দেখা যায়, রেলগেট থেকে কাপড় বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফল, চাউল ও মাছ বাজারে প্রবেশের পথে জমে রয়েছে পানি। কেউ পানি কমার অপেক্ষায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ রিকশায় করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি দোকানও বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের নালাগুলো দীর্ঘদিনের পুরোনো। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাটি ও ময়লায় ভরাট হয়ে আছে। নালার শেষ মাথা জেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় গিয়ে বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। চলতি বছর বাজারের নালাগুলোও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ফল বাজারের ব্যবসায়ী তুহিন চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই নোংরা পানি রাস্তায় জমে যায়। পানি পচা কাদায় পরিণত হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ক্রেতা কমে যায়, ব্যবসায়ও লোকসান হচ্ছে।’
মাছবাজার সংলগ্ন কাঁচামাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘১৬ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি হয়। নালাগুলো পরিষ্কার করলে আমরা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারতাম।’
ফল ব্যবসায়ী বিল্লাল প্রামাণিক বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে এবং তা নামতে দীর্ঘ সময় লাগে। পানি শুকানোর পর রাস্তায় নোংরা কাদা জমে থাকে। দুর্গন্ধের কারণে দোকানে বসাও কঠিন হয়ে পড়ে।’
ফল কিনতে আসা কাওসার প্রামাণিক বলেন, ‘বাজারে নোংরা কাদা-পানি জমে থাকায় আসার মতো অবস্থা নেই। তারপরও অন্য জায়গার তুলনায় এখানে কিছুটা কম দামে ফল পাওয়া যায় বলে কষ্ট করে আসতে হয়।’
রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএস মো. আলী খান বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার নালা রয়েছে। এর মধ্যে বাজার এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার। বর্ষার আগে থেকেই নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং এখনো অনেক স্থানে কাজ চলছে। জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



















