Dhaka ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে -প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 80

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সেটা হলো রাজবাড়ীর হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ। অচিরেই হাবাসপুর লং মার্চ করা হবে। ফারাক্কা লং মার্চের বহু বছর পর আমরা এমন এক লংমার্চ করবো যেখানে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ থাকবে।

শনিবার দুপুরে শহরের রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যথেষ্ট আন্তরিক আছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামীর যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে। পানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সম্ভবনার বিষয় হবে। এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে খুব দ্রুত লং মার্চ টু হাবাসপুর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারত বাংলাদেশের সাথে প্রতারণা করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ ১০ দিনের চালুর কথা বলে তারা আর সেটা বন্ধ করেনি।

সেমিনারে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু ওহাব মো. হাফীজুল হক বলেন, আমাদের অস্তিত্বের দাবি পদ্মা ব্যারেজ। আমাদের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু। পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এজন্য আমাদের দাবি পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ দিতে  হবে।

পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে রাজবাড়ীসহ ২৬টি জেলার কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কথা বলে আসছি। এর আগে ঢাকায় আমরা সেমিনার করেছি। আজ এখানে করলাম। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতু করতে হবে। ফারাক্কার প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটা সময়ের দাবি।

সেমিনারে অনান্য বক্তারা বলেন, পাংশা থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নির্মিত হলে দেশের প্রতিটি নদীতে সবসময় পানি থাকবে। কৃষি, বনায়ন, খাদ্য উৎপাদন, নদীর লবণাক্ততা হ্রাস, দারিদ্র বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা নিরসন হবে। তবে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারলে দেশ ও দেশের মানুষে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জালালের সভাপতিত্বে অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এসএম মতিউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ওআইসির স্থায়ী প্রতিনিধি সদস্য গোলাম মসিহ্, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সদস্য খোন্দকার আব্দুস সাত্তার, পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি সালাম তাসির প্রমুখ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে -প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

প্রকাশের সময় : ০৬:০০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সেটা হলো রাজবাড়ীর হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ। অচিরেই হাবাসপুর লং মার্চ করা হবে। ফারাক্কা লং মার্চের বহু বছর পর আমরা এমন এক লংমার্চ করবো যেখানে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ থাকবে।

শনিবার দুপুরে শহরের রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও ২য় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যথেষ্ট আন্তরিক আছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামীর যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে। পানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সম্ভবনার বিষয় হবে। এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে খুব দ্রুত লং মার্চ টু হাবাসপুর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারত বাংলাদেশের সাথে প্রতারণা করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ ১০ দিনের চালুর কথা বলে তারা আর সেটা বন্ধ করেনি।

সেমিনারে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু ওহাব মো. হাফীজুল হক বলেন, আমাদের অস্তিত্বের দাবি পদ্মা ব্যারেজ। আমাদের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু। পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এজন্য আমাদের দাবি পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ দিতে  হবে।

পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে রাজবাড়ীসহ ২৬টি জেলার কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কথা বলে আসছি। এর আগে ঢাকায় আমরা সেমিনার করেছি। আজ এখানে করলাম। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মা সেতু করতে হবে। ফারাক্কার প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এটা সময়ের দাবি।

সেমিনারে অনান্য বক্তারা বলেন, পাংশা থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নির্মিত হলে দেশের প্রতিটি নদীতে সবসময় পানি থাকবে। কৃষি, বনায়ন, খাদ্য উৎপাদন, নদীর লবণাক্ততা হ্রাস, দারিদ্র বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা নিরসন হবে। তবে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারলে দেশ ও দেশের মানুষে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জালালের সভাপতিত্বে অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এসএম মতিউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ওআইসির স্থায়ী প্রতিনিধি সদস্য গোলাম মসিহ্, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সদস্য খোন্দকার আব্দুস সাত্তার, পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি সালাম তাসির প্রমুখ।