Dhaka ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাবিতে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে শ্রাবণী-রাফি কালীগঞ্জে রাশেদ খানের আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা “মেয়েটি প্রথম যেদিন এখানে আসে, বিশ্বাস করিনি ওর বাচ্চা আছে…সে নিজেও একটা বাচ্চা।” ভারতের জেল থেকে মুক্ত ৫ বাংলাদেশি নারী, বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন NEWS24 টেলিভিশনের ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে পাংশায় কেক কাটা ও আলোচনা সভা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার ৫ হাজার কোটি টাকা আয়, নোলানের ‘দ্য অডিসি’তে মুগ্ধ সিনেমাপ্রেমীরা সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ সিরাজদিখানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিষিদ্ধ
‘ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নৌকা আটকে রাখলেই কেবল বন্ধ হতে পারে মাছ শিকার’

কেউ চাল পেয়েও মাছ ধরছে, আবার কেউ চাল না পেয়েও মাছ ধরছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 134

 রাজবাড়ীতে কেউ চাল পেয়েও মাছ ধরছে, আবার কেউ চাল না পেয়েও মাছ ধরছে না। আবার জেলে নয় এমন লোকও চাল পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জেল-জরিমানা, নৌকা নিলাম কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা জেলেদের। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করেই চলেছেন। গত ১৪ দিনে ৮৭ জন জেলেকে কারাগারে পাঠিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি। দিনের বেলা যেমন তেমন, রাত হলেই নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে জেলেরা। মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা বলছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নৌকা আটকে রাখলেই কেবল বন্ধ হতে পারে মাছ শিকার। মৎস্য কর্মকর্তারাও বলছেন, বিষয়টি তারা ভেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে রাজবাড়ী শহরতলীর গোদারবাজার থেকে সোনাকান্দর মৌলভীঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীতে দেখা যায়, নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। ঢেউ আর ¯্রােত উপেক্ষা করেই ছোট বড় বিভিন্ন নৌকা দিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ট্রলারচালিত এসব নৌকা কোনোটা মাঝ নদীতে আবার কোনোটা তীরের কাছাকাছি দিয়ে চলছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতে প্রচুর নৌকা থাকে মাঝপদ্মায়। ওই সময় টহল না থাকার সুযোগে জেলেরা বেশি বেশি মাছ শিকারের সুযোগ পায়। মাছ বিক্রি হয়ে যায় ফোনে ফোনে। আবার জেলেরা ভ্যান নিয়ে গোপনে ফেরি করে বিক্রি করে। বড় আকারের মাছ এক হাজার টাকা কেজি এবং ছোট আকারের মাছ চার থেকে পাঁচশ টাকা। সমাজের ভদ্রবেশি মানুষেরা এই মাছের ক্রেতা। সকাল আটটার দিকে গোদারবাজার ঘাটে একটি নৌকা এসে থামে। নৌকায় পাঁচজন জেলে। তাদের কাছে থাকা বাক্সভর্তি ইলিশ মাছ। এসময় এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলতে রাজী হন। জেলে জানান, তাদের একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১৮ জন। এর মধ্যে চারজন কর্মক্ষম। তিনজন মাছ ধরেন ও একজন রিক্সা চালান। মাছ না ধরলে তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। গত আষাঢ় মাস থেকে তারা ভালোভাবে নদীতে মাছ ধরতে পারেন না। কারণ, বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা খুবই কঠিন। যখন মাছ ধরার সময় আসে তখন দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। তাদের জালে কখনও ইলিশ বা বড় মাছ ওঠেনা। এই সময়টা ইলিশ পাওয়া যায়। একারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মাছ ধরতে নামেন। গত বছরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই মাছ শিকার করেছিলেন বলে জানান তিনি। খুব কৌশলে তারা মাছ ধরেন এই সময়টায়। তিনি ও তার অপর দুই ভাই নিবন্ধিত জেলে। এ বছর চালও পেয়েছেন। সবমিলিয়ে যে চাল পেয়েছেন তাতে তাদের ১০ দিন চলে। এরপর তরিতরকারি, মসলা, তেল এসব কিনবেন কী দিয়ে। এমনিতেই ঘাড়ের উপর ঋণের বোঝা। আর কত ঋণ করবেন। তাই বাধ্য হয়ে লুকিয়ে চুরিয়ে মাছ ধরতে নামেন নদীতে। সংসার তো চালাতে হবে।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, রাজবাড়ী জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সাথে যুক্ত জেলের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭৭ জন। যাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৭ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ৪ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান চালিয়ে ৩৮১ কেজি ইলিশ মাছ ও ৯ লাখ ৯৩ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। অভিযানের পর ৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৭ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৭৩ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী সজ্জনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ সরকার নদীতে মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করেন। তিনি নিবন্ধিত জেলে। অথচ চাল পাননি। জানান, নদীতে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞার পর খুব কষ্টে আছেন। খাল বিল ঘুরে ঘুরে স্বল্প কিছু মাছ পাচ্ছেন। এতে দুই থেকে তিনশ টাকা আয় হয়। সাত সদস্যের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি উত্তম কুমার সরকার জানান, রাজবাড়ী পৌরসভায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৮১ জন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৫৮ জন চাল পেয়েছে। অনেকেই ২৫ কেজির জায়গায় দুই থেকে তিন কেজি কম পেয়েছে। আবার সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে জেলে নয় এমন লোকও চাল  পেয়েছে। তিনি বারংবার মৎস্য কর্মকর্তাদের বিষয়টি বলেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকুক, এটা তিনি মনে প্রাণে চান। তার সমিতির সদস্যরা চাল না পেলেও মাছ ধরতে যায়নি। অনেকেই এই সময়টাতে মানবেতর জীবনযাপন করে। তবুও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। ইলিশ ধরা বন্ধে শুধু আইন করলে হবেনা। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, জেলেরা যাতে মুক্ত জলাশয়, নদী, খাল-বিলে ১২ মাস মাছ ধরতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক জলাশয় শুকিয়ে গেছে। সেগুলোতে ১২ মাস পানি থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে চলাচল করা সকল নৌকা আটকে রাখতে হবে। তাহলেই বন্ধ হবে মাছ শিকার।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। সেসব দেশে প্রণোদনা দেওয়া হয়না। আমাদের দেশে চাল দেওয়া হয় যাতে জেলেরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। যদিও ২৫ কেজি চাল বড় কিছু নয়। আগামী বছর থেকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার বিষয়টি তারা চিন্তা ভাবনা করছেন। তাদের যে জনবল এবং লজিস্টিক সাপোর্ট রয়েছে তা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা নদী পাহারা দেওয়া খুবই দুরুহ। তারা এই সময়টাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন জেলেদের মাছ ধরা বিরত রাখতে। তিনি বিশ^াস করেন প্রকৃত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে যায়না। কিছু অসাধু জেলে এই কাজগুলো করে। আশি^ন মাসে আমাবস্যা পূর্ণিমাায় ইলিশের প্রজনন সময়। ইলিশ রক্ষা জাতীয় কমিটি গবেষণা করেই সময় নির্ধারণ করে দেয়।

জেলে না হয়েও চাল পাওয়ার বিষয়ে বলেন, কিছু কিছু জায়গায় এমন হতে পারে। উপজেলা কমিটি যাচাই বাছাইয়ের সময় কিছু ভুলভ্রান্তি করে থাকতে পারে। অনেক সময় পেশা পরিবর্তনের তথ্য গোপন করেই চাল নেয়। আগামীতে যাতে নিখুঁতভাবে হয় সে চেষ্টা করবেন। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে নৌকা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তিনি অবশ্যই সুপারিশমালায় তুলে ধরবেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নৌকা আটকে রাখলেই কেবল বন্ধ হতে পারে মাছ শিকার’

কেউ চাল পেয়েও মাছ ধরছে, আবার কেউ চাল না পেয়েও মাছ ধরছে না

প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 রাজবাড়ীতে কেউ চাল পেয়েও মাছ ধরছে, আবার কেউ চাল না পেয়েও মাছ ধরছে না। আবার জেলে নয় এমন লোকও চাল পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জেল-জরিমানা, নৌকা নিলাম কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা জেলেদের। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করেই চলেছেন। গত ১৪ দিনে ৮৭ জন জেলেকে কারাগারে পাঠিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি। দিনের বেলা যেমন তেমন, রাত হলেই নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে জেলেরা। মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা বলছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নৌকা আটকে রাখলেই কেবল বন্ধ হতে পারে মাছ শিকার। মৎস্য কর্মকর্তারাও বলছেন, বিষয়টি তারা ভেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে রাজবাড়ী শহরতলীর গোদারবাজার থেকে সোনাকান্দর মৌলভীঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীতে দেখা যায়, নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। ঢেউ আর ¯্রােত উপেক্ষা করেই ছোট বড় বিভিন্ন নৌকা দিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ট্রলারচালিত এসব নৌকা কোনোটা মাঝ নদীতে আবার কোনোটা তীরের কাছাকাছি দিয়ে চলছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতে প্রচুর নৌকা থাকে মাঝপদ্মায়। ওই সময় টহল না থাকার সুযোগে জেলেরা বেশি বেশি মাছ শিকারের সুযোগ পায়। মাছ বিক্রি হয়ে যায় ফোনে ফোনে। আবার জেলেরা ভ্যান নিয়ে গোপনে ফেরি করে বিক্রি করে। বড় আকারের মাছ এক হাজার টাকা কেজি এবং ছোট আকারের মাছ চার থেকে পাঁচশ টাকা। সমাজের ভদ্রবেশি মানুষেরা এই মাছের ক্রেতা। সকাল আটটার দিকে গোদারবাজার ঘাটে একটি নৌকা এসে থামে। নৌকায় পাঁচজন জেলে। তাদের কাছে থাকা বাক্সভর্তি ইলিশ মাছ। এসময় এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলতে রাজী হন। জেলে জানান, তাদের একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১৮ জন। এর মধ্যে চারজন কর্মক্ষম। তিনজন মাছ ধরেন ও একজন রিক্সা চালান। মাছ না ধরলে তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। গত আষাঢ় মাস থেকে তারা ভালোভাবে নদীতে মাছ ধরতে পারেন না। কারণ, বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা খুবই কঠিন। যখন মাছ ধরার সময় আসে তখন দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। তাদের জালে কখনও ইলিশ বা বড় মাছ ওঠেনা। এই সময়টা ইলিশ পাওয়া যায়। একারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মাছ ধরতে নামেন। গত বছরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই মাছ শিকার করেছিলেন বলে জানান তিনি। খুব কৌশলে তারা মাছ ধরেন এই সময়টায়। তিনি ও তার অপর দুই ভাই নিবন্ধিত জেলে। এ বছর চালও পেয়েছেন। সবমিলিয়ে যে চাল পেয়েছেন তাতে তাদের ১০ দিন চলে। এরপর তরিতরকারি, মসলা, তেল এসব কিনবেন কী দিয়ে। এমনিতেই ঘাড়ের উপর ঋণের বোঝা। আর কত ঋণ করবেন। তাই বাধ্য হয়ে লুকিয়ে চুরিয়ে মাছ ধরতে নামেন নদীতে। সংসার তো চালাতে হবে।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, রাজবাড়ী জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সাথে যুক্ত জেলের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭৭ জন। যাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৭ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ৪ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান চালিয়ে ৩৮১ কেজি ইলিশ মাছ ও ৯ লাখ ৯৩ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। অভিযানের পর ৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৭ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৭৩ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী সজ্জনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ সরকার নদীতে মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করেন। তিনি নিবন্ধিত জেলে। অথচ চাল পাননি। জানান, নদীতে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞার পর খুব কষ্টে আছেন। খাল বিল ঘুরে ঘুরে স্বল্প কিছু মাছ পাচ্ছেন। এতে দুই থেকে তিনশ টাকা আয় হয়। সাত সদস্যের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি উত্তম কুমার সরকার জানান, রাজবাড়ী পৌরসভায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৮১ জন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৫৮ জন চাল পেয়েছে। অনেকেই ২৫ কেজির জায়গায় দুই থেকে তিন কেজি কম পেয়েছে। আবার সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে জেলে নয় এমন লোকও চাল  পেয়েছে। তিনি বারংবার মৎস্য কর্মকর্তাদের বিষয়টি বলেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকুক, এটা তিনি মনে প্রাণে চান। তার সমিতির সদস্যরা চাল না পেলেও মাছ ধরতে যায়নি। অনেকেই এই সময়টাতে মানবেতর জীবনযাপন করে। তবুও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। ইলিশ ধরা বন্ধে শুধু আইন করলে হবেনা। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, জেলেরা যাতে মুক্ত জলাশয়, নদী, খাল-বিলে ১২ মাস মাছ ধরতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক জলাশয় শুকিয়ে গেছে। সেগুলোতে ১২ মাস পানি থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে চলাচল করা সকল নৌকা আটকে রাখতে হবে। তাহলেই বন্ধ হবে মাছ শিকার।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। সেসব দেশে প্রণোদনা দেওয়া হয়না। আমাদের দেশে চাল দেওয়া হয় যাতে জেলেরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। যদিও ২৫ কেজি চাল বড় কিছু নয়। আগামী বছর থেকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার বিষয়টি তারা চিন্তা ভাবনা করছেন। তাদের যে জনবল এবং লজিস্টিক সাপোর্ট রয়েছে তা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা নদী পাহারা দেওয়া খুবই দুরুহ। তারা এই সময়টাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন জেলেদের মাছ ধরা বিরত রাখতে। তিনি বিশ^াস করেন প্রকৃত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে যায়না। কিছু অসাধু জেলে এই কাজগুলো করে। আশি^ন মাসে আমাবস্যা পূর্ণিমাায় ইলিশের প্রজনন সময়। ইলিশ রক্ষা জাতীয় কমিটি গবেষণা করেই সময় নির্ধারণ করে দেয়।

জেলে না হয়েও চাল পাওয়ার বিষয়ে বলেন, কিছু কিছু জায়গায় এমন হতে পারে। উপজেলা কমিটি যাচাই বাছাইয়ের সময় কিছু ভুলভ্রান্তি করে থাকতে পারে। অনেক সময় পেশা পরিবর্তনের তথ্য গোপন করেই চাল নেয়। আগামীতে যাতে নিখুঁতভাবে হয় সে চেষ্টা করবেন। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে নৌকা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তিনি অবশ্যই সুপারিশমালায় তুলে ধরবেন।