ভাগ্য সহায় হলোনা বিল্লালের
মালয়েশিয়ায় কংক্রিটের বালতি চাপায় মৃত্যু

- প্রকাশের সময় : ০৬:২২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 107
ভাগ্যান্বষণে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন বিল্লাল মোল্লা (২৮)। ভাগ্য তার সহায় হলোনা। মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। গত সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে মালয়েশিয়ার জোহরবারু নামক এলাকায় ক্রেন থেকে কংক্রিটের বালতি ছিড়ে তার শরীরের উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। বিল্লাল রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের হাটজয়পুর গ্রামের আব্দুল জব্বার মোল্লার ছেলে।
বিল্লালের পারিবারিক সূত্র জানায়, বিল্লালের বাবা পেশায় অটোরিক্সা চালক। তারা হতদরিদ্র। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে বিল্লাল সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় ভাই দেশে অটোরিক্সা চালাতেন। কিছুদিন আগে তিনিও মালয়েশিয়া গেছেন। নিহত বিল্লালের ঐশী নামে তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।
বিল্লালের ঘনিষ্ঠ তার মামাতো ভাই সোহেল রানা জানান, বিল্লাল আগে ইরাকে ছিল। তখন যা টাকা উপার্জন করতো তা দিয়ে সংসার চলে যেত। হঠাৎ তার(বিল্লাল) মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। ফিরে এসে মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। কিন্তু তার মাকে বাঁচানো যায়নি। এরপর দেশে অটোরিক্সা চালাতো। ২০২৩ সালের দিকে বিভিন্ন জনের কাছে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়া যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে শুরুতে কাজ পায়নি। প্রায় তিন মাস বেকার থাকার পর তিনি বিষয়টি জেনে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে বিল্লালের কাজের ব্যবস্থা করেন। দুই মাস আগে তার আকামার মেয়াদ শেষ হয়। দুই লাখ টাকা খরচ করে নতুন করে আকামা করেন।
সোহেল রানা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে মাগরিবের নামাজের সময় বিল্লালের মেয়ে ঐশী বাবার সাথে কথা বলার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। বাবা-মেয়ে অনেকক্ষণ ফোনে কথা বলেছে। মেয়ের জন্য কী কী কিনেছে সেসবও জানায়। অনেক দিন মেয়েকে দেখেনা এজন্য শিগগিরই বাড়ি আসবে বলে জানায়। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এর কিছু সময় পরে একটি ফোন আসে বিল্লালের স্ত্রীর কাছে। জানায়, বিল্লাল আর নেই। সেখানে কাজ করার সময় ক্রেন থেকে কংক্রিটের বালতি তার শরীরে পড়ে মারা যায়। যার মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছিল তার সাথে যোগাযোগ করে বিল্লালের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করছেন তারা।
বিল্লালের বাবা জব্বার মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মালয়েশিয়া থেকে একজন তাদের কাছে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে। ভিডিওতে দেখেছেন বিল্লাল ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত ক্রেন থেকে কংক্রিট বালতির দড়ি ছিঁড়ে ভারি বালতির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। তার ছেলে মারা যাওয়ায় তিনি নিঃস্ব হয়ে গেলেন। চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন তিনি।
বসন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল সরকার জানান, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। ওরা খুবই হতদরিদ্র। জীবনের সাথে যুদ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়না।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, নিহত বিল্লালের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই করা হবে।




















