Dhaka ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি সেতু এবং পদ্মার চরের হাজারো মানুষের দুঃখ

হামজা শেখ, কালুখালী থেকে
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 301

একটি ছোট্ট সেতু। যেটি হলে বদলে যেতো পুরো এলাকার চিত্র। বন্ধ হতো দীর্ঘদিনের কষ্ট, দূর হতো দুর্ভোগ, আর সহজ হতো চিকিৎসা, পড়াশোনা ও বাজারে যাতায়াত। অথচ সেই সেতুর অভাবে আজও রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১০ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আটকে আছেন জীবনসংগ্রামে।

পদ্মার কোলঘেঁষা হিরু মোল্লার ঘাটে একটি ব্রিজের দাবি অনেক পুরোনো। অথচ আজও সেই দাবির কোনো বাস্তবায়ন নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে এখনো খেয়া নৌকা। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। বাঁশের তৈরি মাচালি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে পড়েও যান কেউ কেউ। চরের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হন নদী। একবার খেয়া মিস করলে দেরি হয় স্কুলে, মিস হয় প্রাইভেট ক্লাস বা পরীক্ষাও।

সাথী আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, অনেক সময় পরীক্ষা মিস হওয়ার ভয় নিয়ে নদী পার হই। আবার বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই।

চরের কৃষক হযরত আলী হতাশা নিয়ে বলেন আমার উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গেলে সময়মতো পৌঁছানো যায় না, দামও পাওয়া যায় না। কখনো ফসল পানিতে পড়ে যায়। একটা ব্রিজ আমাদের চাষাবাদকেই বাঁচাতে পারতো।”

আলাল একজন ঘোড়ার গাড়ির চালক। যাত্রী বা মালামাল নিয়ে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার জন্য তাকে ঘোড়া নিয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়। “ভয় তো থাকেই, আয়ও কমে গেছে। বললেন তিনি কষ্ট নিয়ে।

গৃহবধূ আনিকা খাতুন বলেন, সন্তানকে নিয়ে খেয়া ধরতে গিয়ে কতবার ভিজে গেছি। একটু অসুস্থ হলেই বিপদ। খেয়া না পেলে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা এসে সেতুর প্রতিশ্রæতি দিয়ে যান, কিন্তু পরে কেউ আর ফিরে তাকান না। অথচ একটি সেতুই তাদের জীবনধারাকে বদলে দিতে পারে।

রতনদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা  বলেন, হিরু মোল্লার ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে চরের মানুষ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব দিক থেকেই উপকৃত হবে। আমরা চেষ্টা করছি এটি বাস্তবায়নের।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ  বলেন, দুইবার নকশা বদল করাতে কাজ একটু পিছিয়ে গেছে। আবার এখন তো বর্ষার সময়, ওখানে প্রচুর পানি তাই কাজ শুরু করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুষ্ক মৌসুম এলেই খুব দ্রæত কাজ শুরু হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একটি সেতু এবং পদ্মার চরের হাজারো মানুষের দুঃখ

প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

একটি ছোট্ট সেতু। যেটি হলে বদলে যেতো পুরো এলাকার চিত্র। বন্ধ হতো দীর্ঘদিনের কষ্ট, দূর হতো দুর্ভোগ, আর সহজ হতো চিকিৎসা, পড়াশোনা ও বাজারে যাতায়াত। অথচ সেই সেতুর অভাবে আজও রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১০ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আটকে আছেন জীবনসংগ্রামে।

পদ্মার কোলঘেঁষা হিরু মোল্লার ঘাটে একটি ব্রিজের দাবি অনেক পুরোনো। অথচ আজও সেই দাবির কোনো বাস্তবায়ন নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে এখনো খেয়া নৌকা। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। বাঁশের তৈরি মাচালি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে পড়েও যান কেউ কেউ। চরের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হন নদী। একবার খেয়া মিস করলে দেরি হয় স্কুলে, মিস হয় প্রাইভেট ক্লাস বা পরীক্ষাও।

সাথী আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, অনেক সময় পরীক্ষা মিস হওয়ার ভয় নিয়ে নদী পার হই। আবার বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই।

চরের কৃষক হযরত আলী হতাশা নিয়ে বলেন আমার উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গেলে সময়মতো পৌঁছানো যায় না, দামও পাওয়া যায় না। কখনো ফসল পানিতে পড়ে যায়। একটা ব্রিজ আমাদের চাষাবাদকেই বাঁচাতে পারতো।”

আলাল একজন ঘোড়ার গাড়ির চালক। যাত্রী বা মালামাল নিয়ে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার জন্য তাকে ঘোড়া নিয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হয়। “ভয় তো থাকেই, আয়ও কমে গেছে। বললেন তিনি কষ্ট নিয়ে।

গৃহবধূ আনিকা খাতুন বলেন, সন্তানকে নিয়ে খেয়া ধরতে গিয়ে কতবার ভিজে গেছি। একটু অসুস্থ হলেই বিপদ। খেয়া না পেলে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা এসে সেতুর প্রতিশ্রæতি দিয়ে যান, কিন্তু পরে কেউ আর ফিরে তাকান না। অথচ একটি সেতুই তাদের জীবনধারাকে বদলে দিতে পারে।

রতনদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা  বলেন, হিরু মোল্লার ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে চরের মানুষ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব দিক থেকেই উপকৃত হবে। আমরা চেষ্টা করছি এটি বাস্তবায়নের।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ  বলেন, দুইবার নকশা বদল করাতে কাজ একটু পিছিয়ে গেছে। আবার এখন তো বর্ষার সময়, ওখানে প্রচুর পানি তাই কাজ শুরু করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুষ্ক মৌসুম এলেই খুব দ্রæত কাজ শুরু হবে।