Dhaka ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিঝুমদ্বীপে পর্যটকের ঢল, হোটেলে কক্ষ খালি নেই

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:০০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 188

প্রাকৃতিক সোন্দর্যের লীলাভূমি নিঝুমদ্বীপ। হরিণের অবয়ারণ্য, বিশাল বিচ, কেউড়া বাগান, সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে সোন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে মানুষ কোলাহলমুক্ত এই সোন্দর্য দেখতে ছুঠে আসেন দ্বীপে। এতে করে এখানে গড়ে উঠেছে হোটেল মোটেল জোন। গত কয়েক বছরে এখানে দৃষ্টিগোছর উন্নয়ন না হলেও মানুষের থাকার মতো আধুনিক অনেক ব্যাস্থাপনা এখানে তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পর্যটকদের চাপ বেড়েছে নোয়াখালী হাতিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাময়ী এই দ্বীপে।

সরেজমিনে দেখা যায় নিঝুমদ্বীপের মূল কেন্দ্র বিন্দু নামার বাজারে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। এই বাজারে ২০টি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। তাতে শতভাগ বুকিং থাকায় অনেক পর্যটককে দেখা দেছে তাবু করে রাত যাপন করতে। আবার কেউ কেউ তাবুতেও থাকার সুযোগ পায়নি। তারা বাজারের পাশে বিভিন্ন বাসা বাড়ির সামনের অংশে গাদা-গাদি করে রাত যাপন করছেন।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতের চিত্র এটি।

ফরিদপুর ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ৭০ জনের একটি টিম এসেছে নিঝুমদ্বীপে। তাদের থাকার জায়গা হয়েছে সোহেল রিসোটে। কিন্তু ৭০ জনের সবার থাকার ব্যবস্থা এই হোটেলে ছিল না।

অন্যদিকে অন্য কোন হোটেলে সিট খালি নেই। পরে হোটেলর মালিক বাজারের পাশে তার বাসায় নারী-পুরুষ সহ ১০-১২ জনকে থাকতে দেন। এদের মধ্যে একজন ইমরান জামান জানান, হোটেলে সিট খালি না থাকায় বিপদের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে তাদের সঙ্গে থাকা নারী সহকর্মীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। হোটেল মালিকের সহযোগিতায় ভালোই কেটেছে রাত তাদের।

একইভাবে চট্রগ্রাম থেকে ভেড়াতে আসা চার বন্ধু একই সমস্যার মধ্যে পড়েন বলে জানান আব্দুল আলিম নামে এক পর্যটক। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে তারা নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছেন। প্রথমদিন তারা হোটেলে থাকলেও দ্বিতীয় দিন বুকিং না থাকায় হোটেল ছেড়ে দিতে হয়েছে। অন্য কোন হোটেলে সিট পায়নি তারা। ভাড়া দেওয়া তাবুতেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি।

পরে হোটেলের ম্যানেজারের সহযোগিতায় পাশের একটি বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত যাপন করেন। তাতে খুবই ভালো ভাবে রাত কেটেছে তাদের। তিনি আরও জানান, প্রচুর পরিমানে লোক এসেছে নিঝুমদ্বীপে। যে পরিমান হোটেলে থাকার ব্যবস্থা আছে তার দ্বিগুন মানুষ নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছে। তাদের মতো অনেকের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে মানুষের বাসা বাড়িতে।

ঢাকা থেকে আসা নাবিল নামে একজন জানান, এখানে খাওয়ার হোটেল অনেক কম। সকালে ও রাতে খাওয়ার হোটেলগুলোতে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেতে হয়েছে। শোনা যায় অনেকে হোটেলে খাওয়ার শেষ হয়ে গেছে পরে বাড়ি থেকে এনে লোকজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন হোটেল মালিকরা।

নিঝুমদ্বীপের সোহেল রিসোটের মালিক ইব্রাহীম পার্টি জানান, নিঝুমদ্বীপে নামার বাজারের আশপাশে ছোট-বড় ২০টি হোটেল রয়েছে। এতে তিন শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার অনেকে তাবু ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাতেও শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নিঝুমদ্বীপে বর্তমানে ৬০০-৭০০ লোক অবস্থান করছে। তাতে থাকার সংকট দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। গত রাতে নামার বাজারের পাশে সবকটি বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের বসবাসের ঘর ছেড়ে দিয়েছে পর্যটকদের। সবাই সহযোগিতা করছেন। কোথাও নিরাপত্তার সমস্যা হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, একজন ভিআইপির প্রটোকল দেওয়ার জন্য তিনি নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছেন। ভোরে এসে দেখেন এখানে কোন হোটেলে সিট খালি নেই। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তাকে বনবিভাগের অফিসে অবস্থান করতে হয়েছে। প্রচুর পর্যটক বাজারে, কেউড়া বাগানে, সৈকতে অবস্থান করছেন। অনেকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। নিরাপত্তায় কারও কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিঝুমদ্বীপে পর্যটকের ঢল, হোটেলে কক্ষ খালি নেই

প্রকাশের সময় : ১২:০০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

প্রাকৃতিক সোন্দর্যের লীলাভূমি নিঝুমদ্বীপ। হরিণের অবয়ারণ্য, বিশাল বিচ, কেউড়া বাগান, সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে সোন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে মানুষ কোলাহলমুক্ত এই সোন্দর্য দেখতে ছুঠে আসেন দ্বীপে। এতে করে এখানে গড়ে উঠেছে হোটেল মোটেল জোন। গত কয়েক বছরে এখানে দৃষ্টিগোছর উন্নয়ন না হলেও মানুষের থাকার মতো আধুনিক অনেক ব্যাস্থাপনা এখানে তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পর্যটকদের চাপ বেড়েছে নোয়াখালী হাতিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাময়ী এই দ্বীপে।

সরেজমিনে দেখা যায় নিঝুমদ্বীপের মূল কেন্দ্র বিন্দু নামার বাজারে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। এই বাজারে ২০টি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। তাতে শতভাগ বুকিং থাকায় অনেক পর্যটককে দেখা দেছে তাবু করে রাত যাপন করতে। আবার কেউ কেউ তাবুতেও থাকার সুযোগ পায়নি। তারা বাজারের পাশে বিভিন্ন বাসা বাড়ির সামনের অংশে গাদা-গাদি করে রাত যাপন করছেন।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতের চিত্র এটি।

ফরিদপুর ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ৭০ জনের একটি টিম এসেছে নিঝুমদ্বীপে। তাদের থাকার জায়গা হয়েছে সোহেল রিসোটে। কিন্তু ৭০ জনের সবার থাকার ব্যবস্থা এই হোটেলে ছিল না।

অন্যদিকে অন্য কোন হোটেলে সিট খালি নেই। পরে হোটেলর মালিক বাজারের পাশে তার বাসায় নারী-পুরুষ সহ ১০-১২ জনকে থাকতে দেন। এদের মধ্যে একজন ইমরান জামান জানান, হোটেলে সিট খালি না থাকায় বিপদের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে তাদের সঙ্গে থাকা নারী সহকর্মীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। হোটেল মালিকের সহযোগিতায় ভালোই কেটেছে রাত তাদের।

একইভাবে চট্রগ্রাম থেকে ভেড়াতে আসা চার বন্ধু একই সমস্যার মধ্যে পড়েন বলে জানান আব্দুল আলিম নামে এক পর্যটক। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে তারা নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছেন। প্রথমদিন তারা হোটেলে থাকলেও দ্বিতীয় দিন বুকিং না থাকায় হোটেল ছেড়ে দিতে হয়েছে। অন্য কোন হোটেলে সিট পায়নি তারা। ভাড়া দেওয়া তাবুতেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি।

পরে হোটেলের ম্যানেজারের সহযোগিতায় পাশের একটি বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত যাপন করেন। তাতে খুবই ভালো ভাবে রাত কেটেছে তাদের। তিনি আরও জানান, প্রচুর পরিমানে লোক এসেছে নিঝুমদ্বীপে। যে পরিমান হোটেলে থাকার ব্যবস্থা আছে তার দ্বিগুন মানুষ নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছে। তাদের মতো অনেকের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে মানুষের বাসা বাড়িতে।

ঢাকা থেকে আসা নাবিল নামে একজন জানান, এখানে খাওয়ার হোটেল অনেক কম। সকালে ও রাতে খাওয়ার হোটেলগুলোতে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেতে হয়েছে। শোনা যায় অনেকে হোটেলে খাওয়ার শেষ হয়ে গেছে পরে বাড়ি থেকে এনে লোকজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন হোটেল মালিকরা।

নিঝুমদ্বীপের সোহেল রিসোটের মালিক ইব্রাহীম পার্টি জানান, নিঝুমদ্বীপে নামার বাজারের আশপাশে ছোট-বড় ২০টি হোটেল রয়েছে। এতে তিন শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার অনেকে তাবু ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাতেও শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নিঝুমদ্বীপে বর্তমানে ৬০০-৭০০ লোক অবস্থান করছে। তাতে থাকার সংকট দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। গত রাতে নামার বাজারের পাশে সবকটি বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের বসবাসের ঘর ছেড়ে দিয়েছে পর্যটকদের। সবাই সহযোগিতা করছেন। কোথাও নিরাপত্তার সমস্যা হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, একজন ভিআইপির প্রটোকল দেওয়ার জন্য তিনি নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছেন। ভোরে এসে দেখেন এখানে কোন হোটেলে সিট খালি নেই। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তাকে বনবিভাগের অফিসে অবস্থান করতে হয়েছে। প্রচুর পর্যটক বাজারে, কেউড়া বাগানে, সৈকতে অবস্থান করছেন। অনেকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। নিরাপত্তায় কারও কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি।