গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চার লাখ টাকার অভাবে থমকে আছে শৈশব

স্টাফ রিপোর্টার
- প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 13

আর দশটি শিশুর মতো দৌড়ে বেড়ানো, স্কুলে যাওয়া কিংবা সাইকেল চালানোর প্রবল ইচ্ছা সাত বছরের শিশু রাফসানের। কিন্তু মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় থমকে গেছে তার দুরন্ত শৈশব। হারিয়েছে হাঁটাচলা ও হাত-পায়ের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা; শুরু হয়েছে নিয়মিত খিঁচুনি। সুস্থ জীবনে ফিরতে প্রয়োজন উন্নত নিউরো চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার, যার জন্য দরকার প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন অশ্রুসিক্ত মা-বাবা।
দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলায় একটি ভাড়া বাসায় বাস করে রাফসানের পরিবার। স্থানীয় একটি খাবারের হোটেলে মাত্র ৯ হাজার টাকা মাসিক বেতনে ওয়েটারের কাজ করেন বাবা আলমগীর আবিদ। চার সদস্যের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শৈশবে খেলতে গিয়ে বিছানা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় রাফসান। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তার মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে কথা বলা, হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ানোর শক্তি হারাতে থাকে সে। বর্তমানে তার চলাফেরার একমাত্র ভরসা হুইলচেয়ার আর দাঁড়ানোর জন্য কাঠের একটি বিশেষ স্ট্যান্ড।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভারতে নিয়ে গিয়ে দ্রুত জটিল নিউরো সার্জারি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রাফসান পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনাজপুর রক্তদান সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি রবিউল ইসলাম রাজু জানান, চার লাখ টাকার সংস্থান না হলে শিশুটির জীবন চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি সামান্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে ফুটফুটে রাফসান ফিরে পেতে পারে তার হারানো শৈশব।
Tag :























