গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মৃত্যুভয় জয় করে ক্যামেরার সামনে তানিয়া বৃষ্টি: ‘ডাক্তার বলেছিল আর সাড়ে ৪-৫ বছর বাঁচব’

বিনোদন ডেস্ক:
- প্রকাশের সময় : ০৬:১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 14

মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্তকরণ, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টের চরম সংকট—বিগত দশ মাসে এক দুঃসহ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন তাঁর আয়ু হয়তো আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। তবে মৃত্যুর সেই পূর্বাভাস ও কঠিন চিকিৎসার ধাক্কা পেছনে ফেলে নতুন উদ্দীপনায় আবারও শুটিং সেটে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ দশ মাসের বিরতি ভেঙে সম্প্রতি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি, যাকে নিজের জীবনের ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে দেখছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরা নিয়ে কথা বলেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, বর্তমান শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল। দীর্ঘ দশ মাস পর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও হালকা শরীরচর্চায় ফিরেছেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর ডান দিকের জটিলতায় বাঁ পাশ ফিরে শুতে না পারা, তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও বমির মতো কষ্টগুলো পেরিয়ে রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ অতিক্রম করেছেন।
দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে নতুন করে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই নাটকে ‘সুমি’ চরিত্রে রূপদান করছেন তিনি। তবে এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন তানিয়া। কেমোথেরাপির কোর্স চলমান থাকায় চিকিৎসকেরা শুরুতে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। মানসিকভাবে ভালো থাকার তাগিদেই চিকিৎসকদের অনুরোধ করে সীমিত পরিসরে কাজে ফিরেছেন। এখনো তাঁর দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি রয়েছে, যা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
অসুস্থতার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের দৃশ্যধারণের সময়। তীব্র মাথাব্যথা ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত বমির কারণে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট যখন জানিয়েছিলেন তাঁর বেঁচে থাকার মেয়াদ আর সর্বোচ্চ সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ঢাকায় দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের সময় পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়।
অসুস্থতার এই চরম সংকটকালে মা ও বোনের নিঃস্বার্থ সেবা এবং পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর তাঁর বেঁচে থাকার ভরসা জুগিয়েছে। ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্তদের মনোবল না হারানোর পরামর্শ দিয়ে তানিয়া বৃষ্টি জানান, ইতিবাচক চিন্তা, মানসিক শক্তি ও পরিবারের ভালোবাসাই যেকোনো কঠিন রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
Tag :




















