নভেম্বর-ডিসেম্বরে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: বিশেষ সহকারী
বছর শেষে চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল

- প্রকাশের সময় : ০৭:০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 7

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল এ বছরের শেষ নাগাদ চালু হচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে একযোগে হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের পাঁচটি স্থানে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাব কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন।
রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, ২০১৩ সালে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও সে অনুযায়ী জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে হাসপাতালটি এখনো মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার জনগণকে ধোঁকা দিতেই ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিয়েছিল।’ বর্তমান সরকার রামেক হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, রামেক হাসপাতালসহ সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। এ বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে। এতে হাসপাতালের বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি উল্লেখ করে বিশেষ সহকারী বলেন, পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে অনেক সময় হাসপাতালে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপন নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এবং লিফট স্থাপন না হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে লিফট সরবরাহ করেছিল, তা যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।






















