যশোরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে ৫৪ পরিবর্তন
- প্রকাশের সময় : ০৯:০০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
যশোর জেলার ৯৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলার আট উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের তালিকায় ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রের নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সংশোধন, ভবন পরিবর্তন, নতুন কেন্দ্র নির্ধারণ, দুটি কেন্দ্র বিলুপ্তি এবং ওয়ার্ড পুনর্গঠনের কারণে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাস। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে শার্শা উপজেলায় ১৯টি। এরপর ঝিকরাগাছায় ১০টি ও মনিরামপুরে আটটি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গত ১৫ জুলাইয়ের নির্দেশনার আলোকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলার ৮১৯টি ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা নিয়ে দাবি বা আপত্তি জানানোর জন্য ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এ সময়ে পাওয়া সাতটি দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর সম্ভাব্য চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯টিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রের নাম সংশোধন করা হয়েছে। রহিমপুর আলিম মাদ্রাসার নাম করা হয়েছে রহিমপুর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একইভাবে বড় মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম হয়েছে বিএম শ্রীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঘিবা দাখিল মাদ্রাসার নাম হয়েছে ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা।
শার্শার আরও পাঁচটি পরিবর্তন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসংক্রান্ত। ধান্যখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাগজপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বেনাপোল পৌরসভার আওতায় চলে যাওয়ায় উত্তর কাগজপুকুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসাকে বিকল্প কেন্দ্র করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমড়াখালী মাদ্রাসার অবকাঠামো বিলুপ্ত হওয়া এবং বেনাপোল পৌরসভার সীমানা পরিবর্তনের কারণেও দুটি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে।
মনিরামপুরে আটটি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোজগাতী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পরিবর্তে টুনিয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসা, শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে শ্রীপুর আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসা, বাকোশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে জালঝাড়া নুরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঝিকরাগাছায় ১০টি পরিবর্তনের মধ্যে আটটি বিদ্যমান কেন্দ্র পরিবর্তন এবং দুটি ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্বাসখোলা ইউনিয়নে ওয়ার্ড পুনর্গঠনের কারণে এ পরিবর্তন এসেছে। জেলা প্রশাসকের ১১ জুনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মির্জাপুর ও খরুষা নিয়ে একটি এবং রাজারডুমুরিয়া ও বেড়ারুপানি নিয়ে আরেকটি ওয়ার্ড পুনর্গঠন করা হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোর ভোটার এলাকাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
যশোর সদরে তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে দুটি ভোটকেন্দ্র বিলুপ্তির প্রস্তাব রয়েছে। ফতেপুর ইউনিয়নে অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল একটি কেন্দ্র বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লেবুতলা ইউনিয়নে আনসার ভিডিপি ক্লাবের পরিবর্তে একই স্থানে থাকা লেবুতলা দক্ষিণপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
বাঘারপাড়ায় ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থা ও ভোটারদের সুবিধা বিবেচনায় পাঁচটি পরিবর্তন করা হয়েছে। বন্দবিলা ইউনিয়নে খাজুরা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে বিদ্যমান কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রায়পুর ইউনিয়নে কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় যুক্ত করা হয়েছে। নারিকেলবাড়িয়ায় যোগাযোগ ও ভোটারদের সুবিধার জন্য কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে।
অভয়নগরে তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বাহিরঘাট মেছেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং চেঙ্গুটিয়ার পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবর্তে আরাজি বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ধোপাদী পশ্চিমে অস্তিত্বহীন ব্র্যাক স্কুলের পরিবর্তে প্রচলিত স্থানের নাম ব্যবহার করে কেন্দ্রের নাম সংশোধন করা হয়েছে।
কেশবপুরে সুফলাকাটী ইউনিয়নের আড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে আড়ুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করা হয়েছে। পরিদর্শনে মাদ্রাসাটিতে পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় মাঠ ও প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান পাওয়ায় সেটিকে উপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে। শংকরপুর ও হরিদ্রাপোতাতেও কেন্দ্র-সংক্রান্ত পরিবর্তন আনা হয়েছে। চৌগাছার সিংহঝুলী, মাড়ুয়া ও হাকিমপুর ইউনিয়নেও তিনটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদিকে শার্শার উলাশী ইউনিয়নে একটি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন নাকচ করেছে নির্বাচন অফিস। স্থানীয় ওসমান গনি ১৭ আগস্ট যদুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করার আবেদন করেন। ২০ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শনের পর নির্বাচন কর্মকর্তারা দেখতে পান, যদুনাথপুর কেন্দ্রটি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে এবং প্রধান সড়কের পাশে। বিপরীতে বড়বাড়িয়া কেন্দ্রটি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। ফলে যদুনাথপুর কেন্দ্রই বহাল রাখা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রের অবকাঠামো, কক্ষসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা, মাঠ বা খোলা জায়গা, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানা এবং ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



















