হত্যার পাঁচ দিন আগে পরিকল্পনা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পুলিশের
নওগাঁয় সম্পদের লোভে বড় বোনকে হত্যার অভিযোগ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেফতার ৫

- প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহপালিত পশু, স্বর্ণালংকার ও জমানো টাকার প্রতি লোভ এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে হালিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছোট ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের ছোট ভাই ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের মজনু রহমান (৫৬), তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), বস্তাবর গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৯) এবং ছিলিমপুর গ্রামের দুই ভাই হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেতের আইলে হালিমা বেগমের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁর একটি কানের লতি কাটা এবং অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ওই দিনই ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসিবুল্লাহ হাসিবকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে অভিযান শুরু হয়। প্রথমে ধামইরহাটের আলমপুর ইউনিয়ন থেকে নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বস্তাবর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রবিউল ইসলাম এবং পরে হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করেছে পুলিশ।
সম্পদের লোভ ও পুরোনো বিরোধ থেকে হত্যার পরিকল্পনা
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। নিঃসন্তান ও স্বামীপরিত্যক্ত হালিমা প্রায় ২০ বছর ধরে বাবার বসতভিটায় ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পেছনে টিনের ছাপরাঘরে একা বসবাস করতেন।
তিনি একটি গরু, তিনটি ছাগল ও কয়েকটি হাঁস-মুরগি পালন এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিজের জমানো টাকা বিশ্বাস করে বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের কাছে রাখতেন। ছোট ভাই মজনু ও তাঁর স্ত্রীকে টাকা না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে মাঝেমধ্যে বিরোধ হতো।
পুলিশ জানায়, মজনুর বাড়িতে অন্য অভিযুক্তদের যাত






















