কবর থেকে তোলা হবে সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ
- প্রকাশের সময় : ০৯:১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন করা হবে।
আদালতের নির্দেশে দুই বছর পর তাদের মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ।
ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দু’টি কবর থেকে উত্তোলনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবেদনটি অনুমোদন করেছেন। তবে কবে মরদেহ দু’টি উত্তোলন করা হবে, সে তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।
ওসি বলেন, ২০২৪ সালে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ঘটনায় মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় আদালত ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন শহরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চাঁদ মিয়া।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান একটি গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাপিলা গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও, পরে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান নিহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময়ের পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর গ্রামের খান বাড়িতে দাফন করা হয়।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর শক্তিশালী প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও চলমান ছিল। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ায় টাকা আদায়ের মামলা করেন।
এছাড়াও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল।



















