৩৬ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ
- প্রকাশের সময় : ১১:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর দেশে ফেরত দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
আহত অপর দুজন হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসাদুল হককে মৃত ঘোষণা করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক রাধা রানী হালদার ঠাকুর ও ভাস্কর রায় বিএসএফ ও কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানান, ওই সময় ৬ থেকে ৭ জন বাংলাদেশি মই দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে তাদের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। আহত দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ভারতের সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়। পরে তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের কারাগার হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আসাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান এবং বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে আসাদুল হকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ ফেরত দেয়।





















