Dhaka ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুল কাটতে বের হয়ে সাত মাস পর ফিরল রায়হান, নেই এক পা ও কিডনি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর বাড়ি ফিরেছে সে। তবে আগের মতো সুস্থ-সবল অবস্থায় নয়—একটি পা হারিয়ে এবং শরীরে অস্ত্রোপচারের দাগ নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকার একটি চক্র তাকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে। এমনকি তার একটি কিডনিও কেটে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে রায়হান। গত সাত মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে চিনতে পারেন। পরে খবর পেয়ে বাবা সেখানে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করেন।

রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, চুল কাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে সে কক্সবাজার যায়। সেখানে কয়েকজন ছেলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর তাদের সাথে ট্রেনের ছাদে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে যায়। সেখান থেকে কয়েকজন লোক তাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যায়, যার চারপাশে বাগান এবং মাঝখানে একটি ঘর ছিল। সেখানে তার মতো আরও অনেক ছেলে-মেয়ে ছিল।

রায়হান জানায়, এক রাতে সেখানে ঘুমানোর পর সকালে উঠে সে দেখতে পায় তার একটি পা নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, ট্রেনে দুর্ঘটনায় তার পা কেটে গেছে। পরে প্রতিদিন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ভিক্ষা করানো হতো এবং ভিক্ষার টাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। সেখানে দুইজন পুরুষ ও সালমা নামে এক নারী ছিল বলেও জানায় সে। তার ভাষ্য, ওই জায়গায় অনেকেরই হাত-পা কাটা ছিল। একপর্যায়ে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হলে সে চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় চলে আসে।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, তার ছেলে হেফজখানায় পড়ত। কিছুটা দুষ্টুমি করত বলে মাঝে মাঝে তাকে পানের ক্ষেতে কাজে নিয়ে যেতেন। চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে পাঠানোর পর সে কক্সবাজার চলে যায়। পরে তাকে কমলাপুরে নিয়ে গিয়ে একটি পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলে ছেলের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তিনি।

ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর নাজিম উদ্দিন বলেন, সীরাত মাহফিলে এক ব্যক্তি রায়হানকে দেখে তাকে খবর দেন। সেখানে গিয়ে ছেলেকে দেখে বাবা-ছেলে দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে অভাবের কারণে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাকে বলা হয়, ঘটনা যেহেতু কমলাপুরে ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে হবে। তিনি বলেন, দিনে এনে দিনে খাওয়া একজন দরিদ্র মানুষ হিসেবে ঢাকায় গিয়ে মামলা বা অভিযোগ করার সামর্থ্য তার নেই।

রায়হানের সৎমা ফয়জুন্নেসা বলেন, চুল কাটতে গিয়ে সাত মাস বাড়ির বাইরে ছিল ছেলেটি। ফিরে এসে দেখেন তার একটি পা নেই এবং পেটেও বড় অস্ত্রোপচারের দাগ। সন্তানের এমন পরিণতির জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সীরাত মাহফিলে রায়হানকে প্রথম দেখতে পাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী জানান, রাত ১২টার পর মাহফিলের ভিড়ের মধ্যে এক পায়ে ভর দিয়ে একটি শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখেন তিনি। মুখ পরিচিত মনে হওয়ায় কাছে গিয়ে নাম জানতে চাইলে শিশুটি কান্না করে নিজের পরিচয় দেয়। পরে তিনি রায়হানের বাবাকে ফোন করে খবর দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৈয়ুবুল্লাহ বলেন, দরিদ্র অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ১২ বছরের সন্তানের সাথে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তা কল্পনারও বাইরে। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানবাধিকার কর্মী দেলোয়ার হোসেন রশিদী ঘটনাটিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে শিশুটির ভাষ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে থানায় আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, রায়হান সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেও তার পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করেনি।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, পরিবার জানিয়েছে রায়হান প্রায় এক মাস কক্সবাজারে ছিল। পরে সেখান থেকে তাকে কমলাপুরে নেওয়া হয়। এ কারণে পরিবারকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় কমলাপুর রেলস্টেশনে এক কনটেন্ট নির্মাতা তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ওই ভিডিওতে রায়হানকে বলতে দেখা যায়, জায়গা-সংক্রান্ত মামলায় তার বাবা কারাগারে এবং সৎমা তাকে মারধর করায় সে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় চলে এসেছে। তবে স্বজনদের দাবি, ভয় দেখিয়ে কিংবা কারও শেখানো কথায় শিশুটি ভিডিওতে এমন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে।

মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। রায়হানের ঘটনার মতো শিশু পাচার, অঙ্গ পাচার ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশু উদ্ধার হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশু পাচার, অঙ্গ পাচার ও ভিক্ষাবৃত্তির চক্রের সম্ভাবনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের জন্য জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চুল কাটতে বের হয়ে সাত মাস পর ফিরল রায়হান, নেই এক পা ও কিডনি

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর বাড়ি ফিরেছে সে। তবে আগের মতো সুস্থ-সবল অবস্থায় নয়—একটি পা হারিয়ে এবং শরীরে অস্ত্রোপচারের দাগ নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকার একটি চক্র তাকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে। এমনকি তার একটি কিডনিও কেটে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে রায়হান। গত সাত মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে চিনতে পারেন। পরে খবর পেয়ে বাবা সেখানে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করেন।

রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, চুল কাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে সে কক্সবাজার যায়। সেখানে কয়েকজন ছেলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর তাদের সাথে ট্রেনের ছাদে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে যায়। সেখান থেকে কয়েকজন লোক তাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যায়, যার চারপাশে বাগান এবং মাঝখানে একটি ঘর ছিল। সেখানে তার মতো আরও অনেক ছেলে-মেয়ে ছিল।

রায়হান জানায়, এক রাতে সেখানে ঘুমানোর পর সকালে উঠে সে দেখতে পায় তার একটি পা নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, ট্রেনে দুর্ঘটনায় তার পা কেটে গেছে। পরে প্রতিদিন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ভিক্ষা করানো হতো এবং ভিক্ষার টাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। সেখানে দুইজন পুরুষ ও সালমা নামে এক নারী ছিল বলেও জানায় সে। তার ভাষ্য, ওই জায়গায় অনেকেরই হাত-পা কাটা ছিল। একপর্যায়ে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হলে সে চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় চলে আসে।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, তার ছেলে হেফজখানায় পড়ত। কিছুটা দুষ্টুমি করত বলে মাঝে মাঝে তাকে পানের ক্ষেতে কাজে নিয়ে যেতেন। চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে পাঠানোর পর সে কক্সবাজার চলে যায়। পরে তাকে কমলাপুরে নিয়ে গিয়ে একটি পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলে ছেলের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তিনি।

ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর নাজিম উদ্দিন বলেন, সীরাত মাহফিলে এক ব্যক্তি রায়হানকে দেখে তাকে খবর দেন। সেখানে গিয়ে ছেলেকে দেখে বাবা-ছেলে দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে অভাবের কারণে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাকে বলা হয়, ঘটনা যেহেতু কমলাপুরে ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে হবে। তিনি বলেন, দিনে এনে দিনে খাওয়া একজন দরিদ্র মানুষ হিসেবে ঢাকায় গিয়ে মামলা বা অভিযোগ করার সামর্থ্য তার নেই।

রায়হানের সৎমা ফয়জুন্নেসা বলেন, চুল কাটতে গিয়ে সাত মাস বাড়ির বাইরে ছিল ছেলেটি। ফিরে এসে দেখেন তার একটি পা নেই এবং পেটেও বড় অস্ত্রোপচারের দাগ। সন্তানের এমন পরিণতির জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সীরাত মাহফিলে রায়হানকে প্রথম দেখতে পাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী জানান, রাত ১২টার পর মাহফিলের ভিড়ের মধ্যে এক পায়ে ভর দিয়ে একটি শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখেন তিনি। মুখ পরিচিত মনে হওয়ায় কাছে গিয়ে নাম জানতে চাইলে শিশুটি কান্না করে নিজের পরিচয় দেয়। পরে তিনি রায়হানের বাবাকে ফোন করে খবর দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৈয়ুবুল্লাহ বলেন, দরিদ্র অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ১২ বছরের সন্তানের সাথে যে বর্বরতা করা হয়েছে, তা কল্পনারও বাইরে। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানবাধিকার কর্মী দেলোয়ার হোসেন রশিদী ঘটনাটিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে শিশুটির ভাষ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে থানায় আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, রায়হান সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেও তার পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করেনি।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, পরিবার জানিয়েছে রায়হান প্রায় এক মাস কক্সবাজারে ছিল। পরে সেখান থেকে তাকে কমলাপুরে নেওয়া হয়। এ কারণে পরিবারকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় কমলাপুর রেলস্টেশনে এক কনটেন্ট নির্মাতা তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ওই ভিডিওতে রায়হানকে বলতে দেখা যায়, জায়গা-সংক্রান্ত মামলায় তার বাবা কারাগারে এবং সৎমা তাকে মারধর করায় সে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় চলে এসেছে। তবে স্বজনদের দাবি, ভয় দেখিয়ে কিংবা কারও শেখানো কথায় শিশুটি ভিডিওতে এমন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারে।

মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটছে। রায়হানের ঘটনার মতো শিশু পাচার, অঙ্গ পাচার ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশু উদ্ধার হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশু পাচার, অঙ্গ পাচার ও ভিক্ষাবৃত্তির চক্রের সম্ভাবনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের জন্য জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।