রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
- প্রকাশের সময় : ১২:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এ প্রার্থিতার জন্য সোমবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জোটের প্রতিনিধি দল।
সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনি কর্তার দপ্তর থেকে অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
এর আগে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্নেল অলি আহমদ সাবেক মন্ত্রী ও ছয়বারের সংসদ সদস্য। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্সের অধীনে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামেও সদস্য ছিলেন অলি আহমদ। পরে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও চারদলীয় জোটে জামায়াতের প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ ৩২ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপিকে নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন অলি আহমদ। ২০১২ সালে দলটি আবার বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন তিনি। এবার সেই জোটের পক্ষ থেকেই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছেন বলেই জোটের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে তার নাম প্রস্তাব করেছেন। এ জন্য তিনি জাতি, ১১ দলীয় ঐক্যজোট এবং দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তারা সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়াকে তারা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। সবক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



















