জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতিফলক’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন
- প্রকাশের সময় : ০৮:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 20
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে ‘জুলাই স্মৃতিফলক’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্মৃতিফলকের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনের সূচনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আগে থেকেই চলছিল। তবে ন্যায্য দাবির জবাবে তৎকালীন সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়ায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষও পরাজিত হয়।
জাকসু নির্বাচনকে আন্দোলনের অন্যতম অর্জন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীরা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা এবং গণরুম ও নির্যাতনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই এসব পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ের ঘটনাগুলো স্মরণে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ১৪ জুলাই শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ।
স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত থাকা জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয় এবং পরবর্তীতে তা সারা দেশের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ওই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে আন্দোলনের পর থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে ‘জুলাই স্মৃতিফলক’ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
মোহাম্মদ রুবেল আরও বলেন, এই স্মৃতিফলক শুধু একটি ঘটনার স্মারক নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, সমান সুযোগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
























