সরকারি গণমাধ্যমের শিল্পীর মর্যাদা পেলেন ভাইরাল সেই লায়লা বাউল
- প্রকাশের সময় : ০১:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 18
বেতারের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লায়লা বাউলের হাতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির সনদ তুলে দেন বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুলসংগীত গেয়ে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া ফরিদপুরের লায়লা বাউল, তার প্রকৃত নাম লায়লা বেগম। এবার তিনি পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আরেকটি ধাপ। সরকারি গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতার তাকে তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পীর মর্যাদা দিয়েছে।
বাংলাদেশ বেতারের সংগীত বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর লায়লা বেগমকে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির সনদ তুলে দেন বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক মো. বশির উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ বেতারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাকে তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পীর মর্যাদা দেওয়ার জন্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ বেতারের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বেতার সবসময় প্রতিভার মূল্যায়ন করে এসেছে। লায়রা বেগমের মতো একজন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আগামী দিনে তার আরও সাফল্য কামনা করি।’
একই দিন বাংলাদেশ বেতারের স্টুডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত একক সংগীতানুষ্ঠান ‘ইউফোনি’-তে গান পরিবেশন করেন লাইলী বেগম। বাংলাদেশ বেতারের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলেও অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত পৃথক এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লাইলী বেগমের হাতে তিন লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
গত ২৪ মে ফরিদপুরে নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ গানটি খালি গলায় পরিবেশন করেন লাইলী বেগম। তার সেই পরিবেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি দেশজুড়ে আলোচনায় চলে আসেন তিনি।
শৈশবেই মা-বাবাকে হারান লায়লা বেগম। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার এক পালিত মায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেই মায়ের দেওয়া একটি হারমোনিয়াম থেকেই তার সংগীতচর্চার শুরু। পরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গাইতেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ তৈরি হয়।
ফরিদপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরে ‘লায়লা বাউল’ নামে পরিচিত এই শিল্পীকে খালি পায়ে শহরের অলিগলি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, হাটবাজার কিংবা শ্মশানঘাটে ঘুরে ঘুরে গান গাইতে দেখা যেত। সাদামাটা জীবনযাপন আর অসাধারণ কণ্ঠের জন্য স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তার প্রতিভা পৌঁছে যায় সারা দেশে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ভাষ্য, প্রায় দুই দশক ধরে গানকে সঙ্গী করেই জীবন কাটিয়ে আসছেন লায়লা বাউল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এখন সরকারি স্বীকৃতিও যুক্ত হলো তার অর্জনের তালিকায়। ফলে সংগ্রামমুখর জীবনের এই শিল্পীর সামনে খুলে গেল সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।





















