Dhaka ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

বাংলাদেশ আর ‘ছোট’ দল নয়, সত্যিকারের হুমকি : অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 74

তারকা ক্রিকেটারে ঠাসা শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ‘বাজি’ ধরার লোক খুব বেশি হয়তো ছিল না। একে তো সদ্যই জিম্বাবুয়ের মাটিতে ইনিংস ব্যবধানে একমাত্র টেস্টে হার, তারওপর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে প্রস্তুতি ম্যাচে তৃতীয় সারির অস্ট্রেলিয়ান দলের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট। সব মিলিয়ে খুব একটা আলোচনায় ছিল না বাংলাদেশ।

এর সঙ্গে একের পর এক ইনজুরির থাবা আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বাংলাদেশকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বড় বিজ্ঞাপন হতে পারতেন গতি তারকা নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমেও বারবার উঠে আসছিল টাইগার এই পেসারের স্তুতিগাঁথা। দুর্ভাগ্যবশত চলমান সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হয় তাকে।

এরপরও মাঠের খেলায় প্রতিপক্ষের ‘সম্মান’ আদায়ের প্রত্যাশায় ছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে দলের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের দুঃস্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত টেস্ট শুরুর আগে যেমনটা বলেছিলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এখন আর নেই। আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।

মাঠে এরই মধ্যে নিজেদের পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বপ্নের মতো শুরুর পর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের কীর্তির পর ব্যাট হাতে ঝলমলে পারফরম্যান্স তানজিদ-শান্তদের। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তানজিদ। এ ছাড়া মুমিনুল-শান্তর জোড়া ফিফটিতে রানের চাকাও সচল থেকেছে।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে দেড়শ ছাড়িয়েছে টাইগারদের লিড। ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ, লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানের। তৃতীয় দিনে আগামীকাল লিড আরও বড় করতে চাইবে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের হাসান-তানজিদদের প্রশংসা করছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী অ্যাডাম গিলক্রিস্ট থেকে শুরু করে ডেভিড ওয়ার্নাররাও। এমনকী দেশটির গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের দারুণ লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেট ডটকম ডট এইউতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে , এই ‘টাইগার’রা মোটেও ‘নখদন্তহীন’ নয়। এমনকী তারা আরও বলছে, বাংলাদেশ আর ‘ছোট’ দল নয়, তারা সত্যিকারের হুমকি।

এ ছাড়া সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভুল করে হার না মানা এক দলের (বাংলাদেশ) কাছে টেস্ট ব্যাটিংয়ের পাঠ নিলো অস্ট্রেলিয়া। যেখানে বলা হয়েছে, যে দলকে একসময় নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়া বা হারের আগেই হার মেনে নেওয়া এক নবিশ দল হিসেবে ধরে নেওয়া হতো, তারাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ক্রিকেটের আসল পাঠ বুঝিয়ে দিল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বাংলাদেশ আর ‘ছোট’ দল নয়, সত্যিকারের হুমকি : অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

তারকা ক্রিকেটারে ঠাসা শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ‘বাজি’ ধরার লোক খুব বেশি হয়তো ছিল না। একে তো সদ্যই জিম্বাবুয়ের মাটিতে ইনিংস ব্যবধানে একমাত্র টেস্টে হার, তারওপর ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে প্রস্তুতি ম্যাচে তৃতীয় সারির অস্ট্রেলিয়ান দলের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট। সব মিলিয়ে খুব একটা আলোচনায় ছিল না বাংলাদেশ।

এর সঙ্গে একের পর এক ইনজুরির থাবা আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বাংলাদেশকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বড় বিজ্ঞাপন হতে পারতেন গতি তারকা নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমেও বারবার উঠে আসছিল টাইগার এই পেসারের স্তুতিগাঁথা। দুর্ভাগ্যবশত চলমান সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হয় তাকে।

এরপরও মাঠের খেলায় প্রতিপক্ষের ‘সম্মান’ আদায়ের প্রত্যাশায় ছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে দলের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের দুঃস্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত টেস্ট শুরুর আগে যেমনটা বলেছিলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এখন আর নেই। আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।

মাঠে এরই মধ্যে নিজেদের পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বপ্নের মতো শুরুর পর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের কীর্তির পর ব্যাট হাতে ঝলমলে পারফরম্যান্স তানজিদ-শান্তদের। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তানজিদ। এ ছাড়া মুমিনুল-শান্তর জোড়া ফিফটিতে রানের চাকাও সচল থেকেছে।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে দেড়শ ছাড়িয়েছে টাইগারদের লিড। ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ, লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানের। তৃতীয় দিনে আগামীকাল লিড আরও বড় করতে চাইবে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের হাসান-তানজিদদের প্রশংসা করছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী অ্যাডাম গিলক্রিস্ট থেকে শুরু করে ডেভিড ওয়ার্নাররাও। এমনকী দেশটির গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের দারুণ লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেট ডটকম ডট এইউতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে , এই ‘টাইগার’রা মোটেও ‘নখদন্তহীন’ নয়। এমনকী তারা আরও বলছে, বাংলাদেশ আর ‘ছোট’ দল নয়, তারা সত্যিকারের হুমকি।

এ ছাড়া সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভুল করে হার না মানা এক দলের (বাংলাদেশ) কাছে টেস্ট ব্যাটিংয়ের পাঠ নিলো অস্ট্রেলিয়া। যেখানে বলা হয়েছে, যে দলকে একসময় নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়া বা হারের আগেই হার মেনে নেওয়া এক নবিশ দল হিসেবে ধরে নেওয়া হতো, তারাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ক্রিকেটের আসল পাঠ বুঝিয়ে দিল।