Dhaka ১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে : শিল্পমন্ত্রী প্রাইভেট পড়ালেই এমপিও বাতিল হবে শিক্ষকদের: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল: শাবনূর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা নিহত একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী বালিয়াকান্দীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও হাইজিন সামগ্রী বিতরণ কালুখালীতে দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় সভা কালুখালীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও হাইজিন সামগ্রী বিতরণ চাকরি পেলেন জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য নওগাঁয় প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা নিহত

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরা (৪০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড়সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ সোহেল।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকির (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা জানান, শরিফুলের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বুকে চাকু বিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তখন শরিফুল চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চাকুটি বের করে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কামরুলের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন শরিফুল। কয়েক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে শরিফুল বাড়ি থেকে বের হলে কামরুল তার পথ রোধ করেন।

শরিফুলের চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ বলেন, বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কামরুল হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে আঘাত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় মাদকের কারবার চলে। তাদের দাবি, শরিফুল ও আটক কামরুল দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা নিহত

প্রকাশের সময় : ১০:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরা (৪০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড়সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ সোহেল।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকির (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা জানান, শরিফুলের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বুকে চাকু বিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তখন শরিফুল চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চাকুটি বের করে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কামরুলের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন শরিফুল। কয়েক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে শরিফুল বাড়ি থেকে বের হলে কামরুল তার পথ রোধ করেন।

শরিফুলের চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ বলেন, বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কামরুল হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে আঘাত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় মাদকের কারবার চলে। তাদের দাবি, শরিফুল ও আটক কামরুল দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’