রাজবাড়ীতে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, ‘আইসিইউ নেই’ বলে দেওয়া হয়নি অ্যান্টিভেনম
- প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও সাপের কামড়ে আক্রান্ত ২২ বছর বয়সী যুবক হৃদয়কে তা প্রয়োগ না করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ ও রেফারেল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত হৃদয় রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর গ্রামের প্রবাসী হারেজ মিয়ার ছেলে। গত শুক্রবার বিকেলে রাধাগঞ্জের বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় অজ্ঞাত একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে স্বজনরা তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর অ্যান্টিভেনম দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। হৃদয়ের মা সুমি বেগমের দাবি, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও তা প্রয়োগ করা হয়নি। ক্যানুলা ও স্যালাইন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তখন বিশেষ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হতে পারে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে রোগীকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. বেলায়েত হোসেন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগে চিকিৎসকেরা ঝুঁকি নিতে চান না বলে জানান আরএমও।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকলে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখার উদ্দেশ্য কী? সাপের কামড়ের রোগীকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিইউ কি বাধ্যতামূলক, নাকি প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা প্রয়োগ করা সম্ভব—এ বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর ফরিদপুরে পাঠানোর আগে হৃদয়কে যথাযথ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, পরিবারের অভিযোগ কতটা সত্য এবং চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত প্রচলিত চিকিৎসা-প্রটোকল অনুযায়ী ছিল কি না—তা তদন্তের দাবি উঠেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হৃদয়ের মৃত্যুতে একটি পরিবার যেমন স্বজন হারিয়েছে, তেমনি সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের মজুত ও প্রয়োগের নীতিমালা, জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা এবং রোগী রেফারেল ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।




















