Dhaka ১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

‘ভুল হলে ক্ষমা করবেন’— বিদায়বেলায় বালিয়াকান্দির এসিল্যান্ড

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2

কর্মজীবনে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কিছু বিদায় শুধু দায়িত্বের চেয়ার ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের এক আবেগঘন অধ্যায়। তেমনই এক আবেগঘন পরিবেশে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী থেকে বিদায় নিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ছিল বালিয়াকান্দীতে তাঁর শেষ কর্মদিবস। পরিকল্পনা কমিশনে বদলির কারণে প্রায় দেড় বছরের কর্মস্থল বালিয়াকান্দী ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বালিয়াকান্দীতে যোগ দেন এহসানুল হক শিপন। দায়িত্ব পালনের সময়কালে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের সমস্যা শোনা, ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মধ্য দিয়ে সরকারি সেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সরকারি নিয়ম-কানুন বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কথা শোনাকেও তিনি দায়িত্ব পালনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন।

তবে বিদায়ের মুহূর্তে নিজের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেননি এহসানুল হক শিপন। বরং দায়িত্ব পালনের সময় নিজের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

বিদায়ী বার্তায় বালিয়াকান্দিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে যেন তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়। ভূমি অফিসের সফটওয়্যার ও সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে কোনো কোনো সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিসের সহকর্মী এবং বালিয়াকান্দির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া দায়িত্ব পালন অনেকটাই কঠিন হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন নতুন কর্মস্থলের পথে পা বাড়ান, তখন তাঁর সঙ্গে শুধু সরকারি আদেশের কাগজ থাকে না; সঙ্গে থাকে কর্মস্থলের অসংখ্য মানুষের মুখ, নানা স্মৃতি, ভালো-মন্দের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের ভালোবাসা। বালিয়াকান্দী থেকে বিদায়ের সময় এহসানুল হক শিপনের সঙ্গেও যেন সেই স্মৃতির ঝুলিই সঙ্গী হলো।

বিদায়ের আগে বালিয়াকান্দীবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। মহান আল্লাহ যেন ভবিষ্যতের কর্মস্থলেও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন—এটাই তাঁর প্রার্থনা।

বালিয়াকান্দীতে তাঁর দায়িত্বকাল খুব দীর্ঘ না হলেও ভূমিসেবায় সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রত্যাশা তিনি তৈরি করেছেন, তা স্থানীয়দের কাছে তাঁর বিদায়কে নিছক একজন কর্মকর্তার বদলি হিসেবে রাখেনি; বরং পরিচিত ও আপন হয়ে ওঠা একজন কর্মকর্তার বিদায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে রইল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘ভুল হলে ক্ষমা করবেন’— বিদায়বেলায় বালিয়াকান্দির এসিল্যান্ড

প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কর্মজীবনে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কিছু বিদায় শুধু দায়িত্বের চেয়ার ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের এক আবেগঘন অধ্যায়। তেমনই এক আবেগঘন পরিবেশে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী থেকে বিদায় নিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ছিল বালিয়াকান্দীতে তাঁর শেষ কর্মদিবস। পরিকল্পনা কমিশনে বদলির কারণে প্রায় দেড় বছরের কর্মস্থল বালিয়াকান্দী ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বালিয়াকান্দীতে যোগ দেন এহসানুল হক শিপন। দায়িত্ব পালনের সময়কালে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের সমস্যা শোনা, ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মধ্য দিয়ে সরকারি সেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন অযথা হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সরকারি নিয়ম-কানুন বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কথা শোনাকেও তিনি দায়িত্ব পালনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন।

তবে বিদায়ের মুহূর্তে নিজের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেননি এহসানুল হক শিপন। বরং দায়িত্ব পালনের সময় নিজের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

বিদায়ী বার্তায় বালিয়াকান্দিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে যেন তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়। ভূমি অফিসের সফটওয়্যার ও সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে কোনো কোনো সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিসের সহকর্মী এবং বালিয়াকান্দির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া দায়িত্ব পালন অনেকটাই কঠিন হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন নতুন কর্মস্থলের পথে পা বাড়ান, তখন তাঁর সঙ্গে শুধু সরকারি আদেশের কাগজ থাকে না; সঙ্গে থাকে কর্মস্থলের অসংখ্য মানুষের মুখ, নানা স্মৃতি, ভালো-মন্দের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের ভালোবাসা। বালিয়াকান্দী থেকে বিদায়ের সময় এহসানুল হক শিপনের সঙ্গেও যেন সেই স্মৃতির ঝুলিই সঙ্গী হলো।

বিদায়ের আগে বালিয়াকান্দীবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। মহান আল্লাহ যেন ভবিষ্যতের কর্মস্থলেও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন—এটাই তাঁর প্রার্থনা।

বালিয়াকান্দীতে তাঁর দায়িত্বকাল খুব দীর্ঘ না হলেও ভূমিসেবায় সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রত্যাশা তিনি তৈরি করেছেন, তা স্থানীয়দের কাছে তাঁর বিদায়কে নিছক একজন কর্মকর্তার বদলি হিসেবে রাখেনি; বরং পরিচিত ও আপন হয়ে ওঠা একজন কর্মকর্তার বিদায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে রইল।