Dhaka ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামের পর শহরেও লোডশেডিং, ভোগান্তিতে জনজীবন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 5

 

ঈদের ছুটি শেষে দেশে আবারও লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি দেখা যেত, এখন শহরাঞ্চলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিকালীন ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে লোডশেডিং তুলনামূলক কম ছিল। তবে ১ জুন থেকে পুনরায় লোডশেডিং শুরু হয়। গতকাল বিকেল ৩টায় সারা দেশে প্রায় ৩৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯৬২ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৬২৭ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি এলাকায় ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হাসান বলেন, “দিনে-রাতে সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুমোট গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও ঈদের ছুটিতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন। ঈদের পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর, পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিংও কম ছিল। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক স্থানে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

সরকার এর আগে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য কমাতে উভয় এলাকাতেই সমন্বিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গ্রামের পর শহরেও লোডশেডিং, ভোগান্তিতে জনজীবন

প্রকাশের সময় : ০৯:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

 

ঈদের ছুটি শেষে দেশে আবারও লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি দেখা যেত, এখন শহরাঞ্চলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিকালীন ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে লোডশেডিং তুলনামূলক কম ছিল। তবে ১ জুন থেকে পুনরায় লোডশেডিং শুরু হয়। গতকাল বিকেল ৩টায় সারা দেশে প্রায় ৩৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯৬২ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৬২৭ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি এলাকায় ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হাসান বলেন, “দিনে-রাতে সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুমোট গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও ঈদের ছুটিতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন। ঈদের পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর, পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিংও কম ছিল। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক স্থানে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

সরকার এর আগে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য কমাতে উভয় এলাকাতেই সমন্বিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি।