Dhaka ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মন্ত্রী হওয়ার পর অর্থকষ্টে আছি, সংসার চালাতে আবার রোগী দেখছি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী হজে শয়তানকে ‘ক্লিন বোল্ড’ করলেন ওয়াসিম আকরাম, ভাইরাল ভিডিও ঝিনাইদহে চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার, মালিককে ফিরিয়ে দিল পুলিশ এক মায়ের অনুরোধ রাখতে প্রাণ গেল ৬ শিশুর, দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা মানুষের যেকোনো বিপদে বিএনপি সরকার পাশে থাকবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কলকাতায় সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ মুশফিক-তাইজুলের

ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / 6

ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর জোহরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের বিধান

ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং তা জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা মাঠে আদায় করা উত্তম, তবে মসজিদেও পড়া যায়। এ নামাজে আজান ও ইকামত লাগে না। জুমার নামাজের মতো উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার নামাজের ক্ষেত্রে নামাজের আগে হয়।

ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের নামাজে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও স্মরণ। দাঁড়িয়ে মনে স্থির করতে হবে—ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করা হচ্ছে। মুখে আরবি বা বাংলায় বলা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে এভাবে বলা যায়—
“আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করার নিয়ত করছি।”

আরবি নিয়ত করা চাইলে করা যায়, তবে তা জরুরি নয়।

ঈদের নামাজের নিয়ম

প্রথম রাকাত:
নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে। এরপর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয়বার হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদার মাধ্যমে রাকাত শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত:
বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়তে হবে। এরপর আবার তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, তৃতীয়বার হাত বাঁধতে হবে। এরপর রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

ঈদের তাকবির ও দোয়া

ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব। তাকবির হলো—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

ঈদের খুতবা

ঈদের নামাজের পর ইমাম খুতবা দেন। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর খুতবা দিতেন এবং মুসল্লিদের উপস্থিত থাকার বা চলে যাওয়ার সুযোগ দিতেন। তবে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা উত্তম।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর জোহরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের বিধান

ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং তা জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা মাঠে আদায় করা উত্তম, তবে মসজিদেও পড়া যায়। এ নামাজে আজান ও ইকামত লাগে না। জুমার নামাজের মতো উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার নামাজের ক্ষেত্রে নামাজের আগে হয়।

ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের নামাজে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও স্মরণ। দাঁড়িয়ে মনে স্থির করতে হবে—ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করা হচ্ছে। মুখে আরবি বা বাংলায় বলা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে এভাবে বলা যায়—
“আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করার নিয়ত করছি।”

আরবি নিয়ত করা চাইলে করা যায়, তবে তা জরুরি নয়।

ঈদের নামাজের নিয়ম

প্রথম রাকাত:
নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে। এরপর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয়বার হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদার মাধ্যমে রাকাত শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত:
বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়তে হবে। এরপর আবার তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, তৃতীয়বার হাত বাঁধতে হবে। এরপর রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

ঈদের তাকবির ও দোয়া

ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব। তাকবির হলো—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

ঈদের খুতবা

ঈদের নামাজের পর ইমাম খুতবা দেন। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর খুতবা দিতেন এবং মুসল্লিদের উপস্থিত থাকার বা চলে যাওয়ার সুযোগ দিতেন। তবে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা উত্তম।