Dhaka ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁ শহরে এআই-সক্ষম সিসিটিভি নেটওয়ার্ক স্থাপনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন হতে পারে না’ চলতি অর্থবছরের ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০ মামলা, ফেরাতে এনসিবিতে চিঠি দেবে তদন্ত সংস্থা কালীগঞ্জে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ‘তারেক রহমানের আহ্বানে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জনগণ’ তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায় সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়

ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / 41

ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর জোহরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের বিধান

ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং তা জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা মাঠে আদায় করা উত্তম, তবে মসজিদেও পড়া যায়। এ নামাজে আজান ও ইকামত লাগে না। জুমার নামাজের মতো উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার নামাজের ক্ষেত্রে নামাজের আগে হয়।

ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের নামাজে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও স্মরণ। দাঁড়িয়ে মনে স্থির করতে হবে—ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করা হচ্ছে। মুখে আরবি বা বাংলায় বলা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে এভাবে বলা যায়—
“আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করার নিয়ত করছি।”

আরবি নিয়ত করা চাইলে করা যায়, তবে তা জরুরি নয়।

ঈদের নামাজের নিয়ম

প্রথম রাকাত:
নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে। এরপর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয়বার হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদার মাধ্যমে রাকাত শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত:
বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়তে হবে। এরপর আবার তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, তৃতীয়বার হাত বাঁধতে হবে। এরপর রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

ঈদের তাকবির ও দোয়া

ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব। তাকবির হলো—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

ঈদের খুতবা

ঈদের নামাজের পর ইমাম খুতবা দেন। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর খুতবা দিতেন এবং মুসল্লিদের উপস্থিত থাকার বা চলে যাওয়ার সুযোগ দিতেন। তবে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা উত্তম।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সূর্যোদয়ের পর জোহরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের বিধান

ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং তা জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা মাঠে আদায় করা উত্তম, তবে মসজিদেও পড়া যায়। এ নামাজে আজান ও ইকামত লাগে না। জুমার নামাজের মতো উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার নামাজের ক্ষেত্রে নামাজের আগে হয়।

ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের নামাজে নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও স্মরণ। দাঁড়িয়ে মনে স্থির করতে হবে—ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করা হচ্ছে। মুখে আরবি বা বাংলায় বলা বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে এভাবে বলা যায়—
“আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরসহ আদায় করার নিয়ত করছি।”

আরবি নিয়ত করা চাইলে করা যায়, তবে তা জরুরি নয়।

ঈদের নামাজের নিয়ম

প্রথম রাকাত:
নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে। এরপর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয়বার হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদার মাধ্যমে রাকাত শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত:
বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়তে হবে। এরপর আবার তিন তাকবির দিতে হবে—প্রথম দুইবার হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, তৃতীয়বার হাত বাঁধতে হবে। এরপর রুকু, সিজদা, তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

ঈদের তাকবির ও দোয়া

ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব। তাকবির হলো—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

ঈদের খুতবা

ঈদের নামাজের পর ইমাম খুতবা দেন। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর খুতবা দিতেন এবং মুসল্লিদের উপস্থিত থাকার বা চলে যাওয়ার সুযোগ দিতেন। তবে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা উত্তম।