Dhaka ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ছেলে-নাতির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প প্রিয়াঙ্কা-প্রকৃতি আমায় ক্ষমা করে দিও প্রেসক্লাব যশোরের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ১৯ সেপ্টেম্বর এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেসে তরুণের মৃত্যু, লাশ ফেলে পালাল বন্ধুরা মধুখালীতে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিক, সাধারণ সম্পাদক লিটন নওগাঁর নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান কালীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান র‍্যালি অনুষ্ঠিত নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : রিজভী

মূত্রনালী থেকে বের করা হল ৩.১ কেজি ওজনের পাথর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 59

শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় তিরুকোণামালি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে বিশাল আকারের একটি পাথর অপসারণ করেছেন। ৩.১ কেজি (প্রায় ৬.৮ পাউন্ড) ওজনের এই পাথরটি একজন নবজাতক শিশুর সমান ভারী এবং একটি উটপাখির ডিমের সমান বড়। চিকিৎসকদের দাবি, এখন পর্যন্ত চিকিৎসার ইতিহাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর এটি।

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান সার্জন ড. প্রহলাহন বালকৃষ্ণন জানান, সম্প্রতি উক্ত রোগী স্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মূত্রত্যাগে মারাত্মক কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানালে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার পরই চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, রোগীর মূত্রথলিতে বিশাল আকারের কঠিন পাথর জমা হয়ে আছে। পরবর্তীতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথরটি বের করে আনা হয়। সার্জনদের ধারণা, এই দৈত্যাকৃতির পাথরটি একদিনে তৈরি হয়নি; প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে ধীরে ধীরে এটি রোগীর শরীরের ভেতরে দানা বেঁধেছিল।

চিকিৎসকদের তথ্য মতে, যখন মূত্রথলি থেকে পুরোপুরি প্রস্রাব খালি হয় না, তখন মূত্রে থাকা খনিজ পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ধীরে ধীরে স্ফটিক বা ক্রিস্টালে রূপ নেয়। সময়ের সাথে সাথে এই কঠিন স্ফটিকগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে বড় পাথরে পরিণত হয়। বালির দানার মতো ছোট আকারের পাথরগুলো সাধারণত প্রস্রাবের সাথে একা একাই বেরিয়ে যায়। তবে পাথরের আকার ১ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হলে তা মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসায় অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ৪ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় পাথরকে দানবীয় পাথর হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসেবে ১৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই বিশাল পাথরটি চিকিৎসা জগতের সব পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মূত্রথলির পাথর অপসারণের রেকর্ডটি ছিল ২০০৩ সালে ব্রাজিলের এক রোগীর। সেই পাথরটির ওজন ছিল ১.৯ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ছিল ১৭.৯ সেন্টিমিটার। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পাওয়া ৩.১ কেজি ওজনের পাথরটি ওজনের দিক থেকে পূর্বের সেই বিশ্বরেকর্ডকে অনেক ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিশাল এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর রোগী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও যথেষ্ট সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে স্ট্রোকসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার জন্য তাকে এখনও হাসপাতালে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মূত্রনালী থেকে বের করা হল ৩.১ কেজি ওজনের পাথর

প্রকাশের সময় : ১০:২৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় তিরুকোণামালি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে বিশাল আকারের একটি পাথর অপসারণ করেছেন। ৩.১ কেজি (প্রায় ৬.৮ পাউন্ড) ওজনের এই পাথরটি একজন নবজাতক শিশুর সমান ভারী এবং একটি উটপাখির ডিমের সমান বড়। চিকিৎসকদের দাবি, এখন পর্যন্ত চিকিৎসার ইতিহাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর এটি।

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান সার্জন ড. প্রহলাহন বালকৃষ্ণন জানান, সম্প্রতি উক্ত রোগী স্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মূত্রত্যাগে মারাত্মক কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানালে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার পরই চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, রোগীর মূত্রথলিতে বিশাল আকারের কঠিন পাথর জমা হয়ে আছে। পরবর্তীতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথরটি বের করে আনা হয়। সার্জনদের ধারণা, এই দৈত্যাকৃতির পাথরটি একদিনে তৈরি হয়নি; প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে ধীরে ধীরে এটি রোগীর শরীরের ভেতরে দানা বেঁধেছিল।

চিকিৎসকদের তথ্য মতে, যখন মূত্রথলি থেকে পুরোপুরি প্রস্রাব খালি হয় না, তখন মূত্রে থাকা খনিজ পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ধীরে ধীরে স্ফটিক বা ক্রিস্টালে রূপ নেয়। সময়ের সাথে সাথে এই কঠিন স্ফটিকগুলো পুঞ্জীভূত হয়ে বড় পাথরে পরিণত হয়। বালির দানার মতো ছোট আকারের পাথরগুলো সাধারণত প্রস্রাবের সাথে একা একাই বেরিয়ে যায়। তবে পাথরের আকার ১ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হলে তা মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসায় অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ৪ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় পাথরকে দানবীয় পাথর হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসেবে ১৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই বিশাল পাথরটি চিকিৎসা জগতের সব পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মূত্রথলির পাথর অপসারণের রেকর্ডটি ছিল ২০০৩ সালে ব্রাজিলের এক রোগীর। সেই পাথরটির ওজন ছিল ১.৯ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ছিল ১৭.৯ সেন্টিমিটার। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পাওয়া ৩.১ কেজি ওজনের পাথরটি ওজনের দিক থেকে পূর্বের সেই বিশ্বরেকর্ডকে অনেক ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিশাল এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর রোগী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও যথেষ্ট সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে স্ট্রোকসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার জন্য তাকে এখনও হাসপাতালে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি