ইনজেকশন দিয়ে ফোলানো গরু চেনার ৩ উপায়
- প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 7
কোরবানির ঈদ সামনে এলেই পশুর হাটগুলোতে জমে ওঠে বেচাকেনা। আর এই সময় বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরুকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড, হরমোন বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করেন। বাইরে থেকে এসব গরু দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এগুলোর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন প্রাণিসম্পদ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইনজেকশন বা স্টেরয়েড দিয়ে ফোলানো গরু চেনার কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে।
১. আঙুল দিয়ে চাপ দিন
স্টেরয়েড দেওয়া গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। তাই গরুর পিঠ বা রানের মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে জায়গাটি কিছুক্ষণ দেবে থাকে।
সুস্থ গরুর মাংস শক্ত ও স্বাভাবিক থাকে। চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে চাপের দাগ সহজে মিলিয়ে যায় না।
২. আচরণ লক্ষ্য করুন
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুগুলো অনেক সময় ভেতর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের চলাফেরা ও আচরণেও তার প্রভাব দেখা যায়।
এসব গরু সাধারণত অলস থাকে, কম হাঁটে এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিমাতে দেখা যায়। চোখও ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখায়।
অন্যদিকে সুস্থ গরু সচরাচর চঞ্চল থাকে। মানুষ দেখলে সাড়া দেয়, কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।
৩. অস্বাভাবিক ফোলা ও মুখে লালা
স্টেরয়েডের প্রভাবে গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি বা প্রস্রাবের রাস্তার আশপাশের অংশ অতিরিক্ত ফোলা দেখা যেতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে মুখ থেকে অনবরত লালা বা ফেনাও বের হতে দেখা যায়। এসব লক্ষণ থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।
কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ?
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা পশুর মাংস মানুষের লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এমন গরু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
গরু কিনতে গেলে অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিন
গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে দেখুন
অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত মোটা গরুর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
পরিচিত খামার বা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন
কেনার আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন





















