তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচিতে আগ্রহী আইএমএফ
- প্রকাশের সময় : ০২:৩০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 26
চলমান ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তিন বছরের জন্য নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। গত ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সোমবার অর্থ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার জন্য ধন্যবাদ জানান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মতভাবে ধাপে ধাপে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী।
অর্থমন্ত্রী আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সরকার আগ্রহী। যেখানে তিন বছরের একটি বাস্তবভিত্তিক সময়সীমার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
নাইজেল ক্লার্ক জানান, বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত পোষণ করে।



















