Dhaka ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

জাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

জবি প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 128

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মৌন মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

সমাবেশে বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ঈদের ছুটির আগেই অন্তত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি জাবি প্রক্টরের ‘অদায়িত্বশীল’ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ‘অশোভন আচরণের’ দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তাহসীব বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কাউন্সেলিং বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। তিনি জাবি আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন, জাবি প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই দমনের পরিবেশ তৈরি করছে।

মারুফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের অভাব এবং প্রশাসনের অসংবেদনশীল আচরণ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত অভিভাবকের মতো। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিদি জাফরাত বলেন, ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে নারীদের এখনও রাজপথে নামতে হওয়াটা লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মৌন মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

সমাবেশে বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ঈদের ছুটির আগেই অন্তত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি জাবি প্রক্টরের ‘অদায়িত্বশীল’ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ‘অশোভন আচরণের’ দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তাহসীব বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কাউন্সেলিং বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। তিনি জাবি আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন, জাবি প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই দমনের পরিবেশ তৈরি করছে।

মারুফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের অভাব এবং প্রশাসনের অসংবেদনশীল আচরণ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত অভিভাবকের মতো। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিদি জাফরাত বলেন, ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে নারীদের এখনও রাজপথে নামতে হওয়াটা লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।