Dhaka ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মুন্সীগঞ্জে দাদা-দাদির কবরের পাশে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন কালুখালীতে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় গরুর বেপারীর মৃত্যু, আহত ২ দেশে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২ বছরের মধ্যেই ঢাকার চেহারা বদলে দেয়ার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়া যাবে না, প্রজ্ঞাপন জারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে বিএনপি সরকার : প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবা : দুই ক্লিনিককে জরিমানা কী ঘটেছিল ছোট্ট রামিসার সাথে, জবানবন্দিতে যা জানাল ঘাতক সোহেল

জাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

জবি প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 37

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মৌন মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

সমাবেশে বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ঈদের ছুটির আগেই অন্তত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি জাবি প্রক্টরের ‘অদায়িত্বশীল’ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ‘অশোভন আচরণের’ দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তাহসীব বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কাউন্সেলিং বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। তিনি জাবি আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন, জাবি প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই দমনের পরিবেশ তৈরি করছে।

মারুফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের অভাব এবং প্রশাসনের অসংবেদনশীল আচরণ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত অভিভাবকের মতো। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিদি জাফরাত বলেন, ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে নারীদের এখনও রাজপথে নামতে হওয়াটা লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মৌন মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

সমাবেশে বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ঈদের ছুটির আগেই অন্তত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি জাবি প্রক্টরের ‘অদায়িত্বশীল’ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি ‘অশোভন আচরণের’ দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তাহসীব বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল কাউন্সেলিং বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। তিনি জাবি আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন, জাবি প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজেই দমনের পরিবেশ তৈরি করছে।

মারুফ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের অভাব এবং প্রশাসনের অসংবেদনশীল আচরণ প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত অভিভাবকের মতো। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিদি জাফরাত বলেন, ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে নারীদের এখনও রাজপথে নামতে হওয়াটা লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।