মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে যেভাবে নেওয়া হতে পারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি)
- প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 21
দেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের পরিকল্পনা করছে। তবে কীভাবে এই কর আদায় করা হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। বিশেষ করে যেসব মোটরসাইকেল মালিকের করযোগ্য আয় নেই এবং টিআইএন (Tax Identification Number) নেই—তাদের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা যানবাহনকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের শুধু বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন ফি দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই ফি’র পাশাপাশি অতিরিক্ত এআইটি যুক্ত হতে পারে।
টিআইএন ভিত্তিক আদায়ের পরিকল্পনা
এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, টিআইএন নম্বরের মাধ্যমেই এআইটি আদায়ের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে যাদের টিআইএন নেই, তাদের ক্ষেত্রে নতুনভাবে নিবন্ধন বা টিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমানে দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এসব যানবাহনকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য করহার নিয়ে আলোচনা
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ইঞ্জিন ক্ষমতার ভিত্তিতে আলাদা করহার নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী—
- ১১০ সিসি পর্যন্ত বাইক
- ১১১–১২৫ সিসি পর্যন্ত বাইক: বছরে প্রায় ২ হাজার টাকা
- ১২৬–১৬৫ সিসি পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার টাকা
- ১৬৫ সিসির বেশি: প্রায় ১০ হাজার টাকা
এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও এলাকা ভিত্তিক কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
আলোচনায় মতামত
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান মনে করেন, মোটরসাইকেলকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ যৌক্তিক হতে পারে, তবে তা হতে হবে সুষম ও বাস্তবসম্মত হারে।
তিনি বলেন, কর আদায় টিআইএনের মাধ্যমে হবে নাকি অন্য পদ্ধতিতে—এটি এনবিআরকেই নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলন
এদিকে সম্ভাব্য এআইটি আরোপের খবরে মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানীতে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মোটরসাইকেল অনেকের জীবিকার মাধ্যম হওয়ায় অতিরিক্ত কর আরোপ সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, আয়ের ভিত্তিতে ন্যায্য কর নির্ধারণ হলে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।





















