মা হাতির মৃত্যু, লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়াল হাতির পাল
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 14
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অসুস্থ একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর একটি শাবক হাতিসহ ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় হাতিটির মৃত্যু হয়। মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
এর আগে কয়েকদিন ধরে রামুর ঈদগড়, চকরিয়ার খুটাখালী এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার পাহাড়ে হাতিটিকে অসুস্থ অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বন বিভাগের ধারণা, প্রায় এক মাস আগে হাতিটি গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল থেকে হাতিটিকে নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে দুর্বল ও অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার পাশে প্রায় তিন বছর বয়সী একটি শাবক ঘোরাফেরা করছিল। কেউ কাছে গেলে শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করছিল এবং মায়ের পাশ ছাড়ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই ছোট শাবকটি ছিল। মানুষ কাছে গেলেই সেটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল।
খবর পেয়ে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে হাতিটির চিকিৎসা করা হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল থাকায় রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, মা হাতিটির মৃত্যুর পর গভীর রাতে প্রায় ১০টি বন্য হাতির একটি পাল ঘটনাস্থলে এসে অবস্থান নেয়। কিছু সময় পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে খাদ্য সংকটের কারণে প্রায়ই বন্য হাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির কারণেই হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবার বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই মৃতদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।





















