Dhaka ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে ১৬ যুদ্ধবিমান ও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 20

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে ১৬টি যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্র। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে ইসলামাবাদ।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দিতেই পাকিস্তান এ যুদ্ধ সক্ষম বাহিনী পাঠিয়েছে।

তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত বছর স্বাক্ষরিত একটি গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর হামলার ঘটনায় সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব কার্যত পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের’ আওতায় রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এছাড়া দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরবে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন থাকা পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি চীনা নির্মিত এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এসব সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা পরিচালনা করছেন এবং এর ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোতায়েন করা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান। তবে অতীতেও বিভিন্ন সামরিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানের হাজার হাজার সেনা দায়িত্ব পালন করেছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির নথি দেখেছেন বলে দাবি করা এক সরকারি সূত্র জানান, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তায় দেশটির বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এসব সেনা কাজ করবে।

দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্স বলছে, যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাজারো সেনা পাঠানোর মাধ্যমে পাকিস্তান কেবল প্রতীকী নয়, বড় পরিসরের সামরিক সহায়তাই দিয়েছে।

এর আগে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠায়। তখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সৌদি আরব বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে পারে।

পরবর্তীতে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় সপ্তাহ ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির পেছনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনাও হয়েছিল ইসলামাবাদে। যদিও পরবর্তী বৈঠকগুলো পরে স্থগিত করা হয়।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সৌদি আরব পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক গোপন হামলাও চালিয়েছে, যেগুলোর অনেক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্তান। প্রশিক্ষণ, পরামর্শক দল ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরবও একাধিকবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সৌদিতে ১৬ যুদ্ধবিমান ও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

প্রকাশের সময় : ১০:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে ১৬টি যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্র। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে ইসলামাবাদ।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দিতেই পাকিস্তান এ যুদ্ধ সক্ষম বাহিনী পাঠিয়েছে।

তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত বছর স্বাক্ষরিত একটি গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর হামলার ঘটনায় সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব কার্যত পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের’ আওতায় রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এছাড়া দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরবে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন থাকা পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি চীনা নির্মিত এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এসব সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা পরিচালনা করছেন এবং এর ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোতায়েন করা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান। তবে অতীতেও বিভিন্ন সামরিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানের হাজার হাজার সেনা দায়িত্ব পালন করেছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির নথি দেখেছেন বলে দাবি করা এক সরকারি সূত্র জানান, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তায় দেশটির বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এসব সেনা কাজ করবে।

দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধজাহাজ সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্স বলছে, যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাজারো সেনা পাঠানোর মাধ্যমে পাকিস্তান কেবল প্রতীকী নয়, বড় পরিসরের সামরিক সহায়তাই দিয়েছে।

এর আগে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠায়। তখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সৌদি আরব বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে পারে।

পরবর্তীতে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় সপ্তাহ ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির পেছনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনাও হয়েছিল ইসলামাবাদে। যদিও পরবর্তী বৈঠকগুলো পরে স্থগিত করা হয়।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সৌদি আরব পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক গোপন হামলাও চালিয়েছে, যেগুলোর অনেক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে পাকিস্তান। প্রশিক্ষণ, পরামর্শক দল ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরবও একাধিকবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।