কেন ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ ও স্বর্ণ ক্রয় না করতে বলছেন মোদি?
- প্রকাশের সময় : ১০:১৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 6
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ কমানো, স্বর্ণ ক্রয় থেকে বিরত থাকা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi।
রোববার দক্ষিণ ভারতের Hyderabad শহরে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোদি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও মানুষকে সেই অভ্যাসে ফিরে যেতে হবে। তার মতে, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমলে জ্বালানি খরচও কমবে।
তিনি অনলাইন বৈঠক বৃদ্ধি, গণপরিবহন ব্যবহার এবং কারপুলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে রান্নার তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটি যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি দেশপ্রেমেরও পরিচায়ক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী অন্তত এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভারতীয়দের স্বর্ণ কেনা থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ করেন। কৃষকদের সার ব্যবহারের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
মোদি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
কেন উদ্বিগ্ন ভারত?
Iran যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১০৫ ডলারের বেশি হয়েছে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।
যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পরে Strait of Hormuz প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে ইরান সীমিত কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
অন্যদিকে এপ্রিল মাসে United States ইরানি বন্দরগামী জাহাজে নৌ অবরোধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া ও অন্যান্য সার রফতানি হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Reserve Bank of India-এর তথ্যানুযায়ী, ১ মে পর্যন্ত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৬৯০ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। মার্চের শেষের তুলনায় এটি প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কম। যুদ্ধ শুরুর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের রিজার্ভ ছিল ৭২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে International Monetary Fund পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তেল, স্বর্ণ ও বিদেশ ভ্রমণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। গত অর্থবছরে দেশটি ১২৩ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।
এর পরেই রয়েছে স্বর্ণ আমদানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ৭২ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বিদেশ ভ্রমণেও ভারতীয়দের ব্যয় ব্যাপক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশ সফরে ভারতীয়রা প্রায় ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন।
এছাড়া ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া সার আমদানিকারক দেশ। গত বছর দেশটি প্রায় ১ কোটি টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।
সূত্র: Al Jazeera






















