বান্দরবান থেকে ফিরে জ্বর-খিচুনিতে মৃত্যু, তিন দিন কোমায় ছিলেন অধ্যাপক জুথি
- প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / 24
বান্দরবান ভ্রমণ শেষে জ্বর, বমি ও খিচুনিতে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন কোমায় থাকার পর মারা গেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) শিক্ষক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর।
ড. জুথি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
সহকর্মীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি বান্দরবান ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তার খিচুনি শুরু হলে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি মশাবাহিত ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
সিভাসুর অধ্যাপক শিরিন আক্তার জানান, গত শনিবার রাতে জুথির জ্বর আসে। পরদিন জ্বরের সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সোমবার ভোরে জুথির প্রচণ্ড খিচুনি হয়। পরে এমআরআই রিপোর্টে দেখা যায় তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এরপর চিকিৎসকরা জাপানিজ এনকেফেলাইটিসের আশঙ্কা করেন।”
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাওসারুল আলম জানান, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ব্রেইনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখে চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছে, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে। তবে ম্যালেরিয়া পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তিনি বান্দরবান ভ্রমণ করেছিলেন। তাই মশাবাহিত কোনো রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যালেরিয়া বা জাপানিজ এনকেফেলাইটিস—কোনটি ছিল, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
সোমবার থেকে কোমায় থাকা ড. জুথিকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী অধ্যাপক শাহরিয়ার হাসেম অর্ণব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান শোক প্রকাশ করেছেন।






















