নীরবে ছড়াচ্ছে কিডনি রোগ, যেসব উপসর্গ দেরিতে প্রকাশ পায়
- প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
দীর্ঘ সময় ধরে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুরুতে কোনও লক্ষণ না থাকায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। অথচ সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আমাদের শরীর ঠিকই সংকেত পাঠায় তবে অনেক লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়। মায়ো ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে কিডনি বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু বেন্টল দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ তখন হয়, যখন কয়েক মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে দেয়, যা পরে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, শরীরে লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং হাড় মজবুত রাখতেও ভূমিকা রাখে।
রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তারা কিডনি রোগে আক্রান্ত যতক্ষণ না এটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি রোগ শনাক্ত করেন। এসব পরীক্ষায় রক্তে বর্জ্যের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা প্রস্রাবে অস্বাভাবিক কিছু প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যানের মতো পরীক্ষাও করা হতে পারে। দীর্ঘদিন কিডনির সম স্যা চলতে থাককে এক পর্যায়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তখন কিডনি প্রতিস্থাপন বা ডায়ালাইসিস ছাড়া সুস্থ থাকা সম্ভব হয় না।
উপসর্গ
ক্রনিক কিডনি রোগের উপসর্গ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে তরল ও বর্জ্য জমে যায়। একই সঙ্গে রক্তে অ্যাসিড, পটাশিয়াম ও ফসফেটের মাত্রাও বাড়তে পারে। এই রোগের উপসর্গ সাধারণত অস্পষ্ট হয়। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যায় পর্যন্ত কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। রোগ গুরুতর হলে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
বমিভাব
বমি
ক্ষুধামন্দা
ক্লান্তি ও দুর্বলতা
ঘুমের সমস্যা
মনোযোগ বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া
নিয়ন্ত্রণে কঠিন উচ্চ রক্তচাপ
ফুসফুসে তরল জমলে শ্বাসকষ্ট
কিডনি রোগের ধাপ
কিডনি রোগের মোট পাঁচটি ধাপ রয়েছে। কোন ধাপে রোগটি রয়েছে তা জানতে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাকে বলা হয় ইস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট। এটি প্রতি মিনিটে কিডনি কতটা রক্ত ছেঁকে ফেলতে পারে তা মাপা হয় (মিলিলিটার/মিনিট)। ইস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট কম হলে বোঝা যায় কিডনির কার্যক্ষমতা কমছে।
যেসব দীর্ঘমেয়াদি রোগ কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সেগুলো থাকলে নিয়মিত কিডনির অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস অন্তর রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়লে কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হতে পারে। কিডনি রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নেফ্রোলজিস্ট বলা হয়।
























