ব্যবসায়ীর জমি জবরদখলের অভিযোগ, বসতবাড়িতে হামলা ও দোকানে তালা
- প্রকাশের সময় : ০৭:২২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 49
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার লাড়িবাড়ী বাজারে মো. আমির আলী শেখ (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর জমি জবরদখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আমির আলী শেখ জানান, লাড়িবাড়ী বাজারের উত্তর পাশে পাংশা-মৃগীবাজার সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ৬ শতাংশ জমি তিনি দীর্ঘদিন আগে ক্রয় করেন। ওই জমিতে বর্তমানে একটি সিমেন্টের খুঁটি তৈরির কারখানা ভাড়া দেওয়া রয়েছে। পাশের জমির মালিক কিবরিয়া মোল্লা তার জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ না করেই আমির আলীর জমির অংশ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একাধিকবার বাজার কমিটির মাধ্যমে জমি মাপামাপি করা হলেও কিবরিয়া মোল্লা তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। এ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে কিবরিয়া মোল্লার কথা কাটাকাটি ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর কিবরিয়া মোল্লা তার লোকজন নিয়ে আমির আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। বাজারের দোকানেও হামলার চেষ্টা করা হলে বাজার কমিটির সদস্যরা বাধা দেন।
এ ঘটনার পর প্রায় এক মাস ধরে আমির আলী ও তার ছেলেরা দোকান খুলতে পারেননি। ঈদেও দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে বাজার কমিটির উপস্থিতিতে সম্প্রতি দোকানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তার জমির ওপর নির্মিত ভবন অপসারণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত কিবরিয়া মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভবন নির্মাণের আগে তিনি জমি মাপার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমির আলী তাতে সাড়া দেননি। তিনি দাবি করেন, সীমানা থেকে জায়গা রেখে নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মাপামাপিতে সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজার কমিটি আমির আলীর পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে।
মারামারির ঘটনার বিষয়ে কিবরিয়া মোল্লা বলেন, ওইদিন আমির আলীর ছেলে ইব্রাহিম তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। তবে তিনি বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
লাড়িবাড়ী বাজার কমিটির সভাপতি আনিচ মোল্লা জানান, মারামারির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দোকান লুটপাটের আশঙ্কায় সাময়িকভাবে দোকানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে।

























