Dhaka ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মান্দায় ৪৬০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ নারী আটক জাবিতে সায়েন্স ক্লাবের ‘ফ্রেশার মাইন্ড হান্টার্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ‘লাশ বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেব’—ভূমি কর্মকর্তাকে সেবাগ্রহীতার হুমকি কালুখালীতে নবাগত ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইছামতীর পানিতে প্লাবিত বেনাপোলে ১০০ পরিবার পেল বিজিবির ত্রাণ কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন শার্শায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১ রাজবাড়ী উদীচীতে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহকে স্মরণ পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজবাড়ীতে তেল সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ

পাংশা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / 190

রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা মানুষ। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন জেলা থেকে ফিরে আসা মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, পাম্প খোলা থাকলেও পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী মোটরসাইকেল চালক লুৎফর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছি। রাজবাড়ী পর্যন্ত যত পাম্প পেয়েছি, কোথাও তেল নেই। এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব বুঝতে পারছি না।”

আরেক চালক আব্দুর রব বলেন, “পাংশা, কালুখালী ও রাজবাড়ীর একাধিক পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। এতে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”

মো. হাসেম আলী বলেন, “মঙ্গলবার থেকে অফিস। কিন্তু রাজবাড়ীর কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। কীভাবে গন্তব্যে যাব বুঝতে পারছি না।”

এদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক জানান, “ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তেল দিতে পারছি না। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পাংশা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, “প্রতিদিন আমাদের চাহিদা প্রায় ১০ হাজার লিটার, কিন্তু সপ্তাহে মাত্র ৬ হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।”

জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ নেই। তবে কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে তেল সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ

প্রকাশের সময় : ০৫:০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা মানুষ। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন জেলা থেকে ফিরে আসা মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, পাম্প খোলা থাকলেও পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী মোটরসাইকেল চালক লুৎফর রহমান বলেন, “ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছি। রাজবাড়ী পর্যন্ত যত পাম্প পেয়েছি, কোথাও তেল নেই। এখন কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব বুঝতে পারছি না।”

আরেক চালক আব্দুর রব বলেন, “পাংশা, কালুখালী ও রাজবাড়ীর একাধিক পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। এতে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”

মো. হাসেম আলী বলেন, “মঙ্গলবার থেকে অফিস। কিন্তু রাজবাড়ীর কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। কীভাবে গন্তব্যে যাব বুঝতে পারছি না।”

এদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক জানান, “ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তেল দিতে পারছি না। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পাংশা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, “প্রতিদিন আমাদের চাহিদা প্রায় ১০ হাজার লিটার, কিন্তু সপ্তাহে মাত্র ৬ হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।”

জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ নেই। তবে কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।