গোয়ালন্দে মাদক-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের আল্টিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / 136
আলী নেওয়াজ মাহমূদ খৈয়ম বলেছেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যান, না হলে এ জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের থাকতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমূদ খৈয়ম বলেন, তিনি জানেন কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তারা অনেক সময় তাঁকে ফুল দিতেও আসে। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে জেলার প্রতিটি এলাকা তাঁর নখদর্পণে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, অন্যথায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জেলায় কোনো ধরনের অবৈধ মাটি ও বালু কাটা চলবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে কোনো চাঁদাবাজ বা অপরাধীর স্থান হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ দায় তিনি নেবেন না—যারা জড়িত, তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম ও শিল্পকলা একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। চরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষিজমি বৃদ্ধি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। চরাঞ্চলকে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।
গোয়ালন্দে একটি নৌবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গোয়ালন্দে যদি একটি পদ্মা সেতু হয়, তাহলে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে উর্বর ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত হবে। রেল সংযোগ চালু হলে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। তখন রাজবাড়ী কার্যত ঢাকারই অংশ হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।




















