জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি
- প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 183
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও আইনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গণঅভ্যুত্থানকারীদের মামলায় না জড়ানোর বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন বিধায় এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা প্রত্যাহার করা হবে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা আইনত দায়ের করা যাবে না। এ ধরনের মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আদালতে আবেদন দাখিল করা হলে আদালত আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে না এবং সংশ্লিষ্ট মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে যেক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তদন্তে যদি অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। আর যদি অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন। এ ধরনের ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।























