এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে : প্রধান উপদেষ্টা
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 170
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি আদর্শ হয়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করাই সরকারের মূল দায়িত্ব এবং এই বিশাল কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করাকে ঐতিহাসিক অর্জনে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোথাও কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে এবং ইসির নির্দেশনাই হবে সবার জন্য সর্বোচ্চ নির্দেশ।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি হবে এর চূড়ান্ত পর্ব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। নির্বাচনকালে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। এবারের নির্বাচন দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তাই সবাইকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান প্রস্তুতি ও পরিস্থিতিতে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় একটি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, আজ মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
তিনি আরও বলেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবারের নির্বাচনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। দলীয় প্রতীক, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনার কারণে ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, এ নিয়ে যেন কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। একই সঙ্গে সব ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে। ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং বডি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য আসবে। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত ও প্রয়োজনে ঘন ঘন এ ধরনের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।























