Dhaka ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্পের আঘাত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩০ ঘানাকে হারিয়ে নকআউটে মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ থেকে স্কটল্যান্ডের বিদায়, কোচের পদত্যাগ উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করল কঙ্গো বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পাচার: আনসার সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেশের স্বার্থে বিএনপি আপসহীন : রাশেদ খান বাধ্যতামূলক হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাংশায় তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বেদেপল্লীর বাসিন্দারা

এ কে আজাদ, পাংশা
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 201

আমরা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষ, অসহায়ত্ব ও দারিদ্রতা আমাদের রোজকার জীবনসঙ্গী।আর্থিক অভাব অনটনে থাকায়, তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়, সর্দি, কাশি জ্বরসহ শীতকালীন নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা। দু-চোখ ভরা আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন-রাজবাড়ীর পাংশা আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডের অদুরে অস্থায়ী বেদেপল্লীর বাসিন্দা সীমা বেগম।

এভাবেই মানবেতর জীবন কাটছে বেদেপল্লীটির অন্তত ১০টি পরিবারের। তবে হতদরিদ্র এসব মানুষের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে বেদে পল্লীতে ঘুরে দেখা গেছে, পৌষের কনকনে শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙ্গিয়ে  দিনের পর দিন বসবাস করা মানুষগুলো।

মাটির উপর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট আকারের ছোট্ট একটি তাঁবু টাঙ্গিয়ে তৈরি করা ঘরে পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন অনেকে। বেদে পল্লীর এসব মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, তীব্র শীতে জুবুথুবু অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায়, অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জীবিকার তাগিদে ও কর্মের খোঁজে ছুটে চলা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

বেদেপল্লীর বাসিন্দা লিমা বেগম বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেইরে বাপু, দু-পয়সা দিয়ে কেউ সহযোগিতা করেনা, তীব্র শীতে ছোট তাঁবুর নিচে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে আমাদের জীবনযাপন। কেউ একটু গরম কাপড় নিয়ে আসবে, এই অপেক্ষায় সারাদিন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকি।

বেদেপল্লীর আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে শীত কম ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ছে, সঙ্গে শীতল বাতাস বইছে। জীবিকা তাগিদে বের হওয়া যাচ্ছে না।তারপরও স্ত্রী সন্তানদের কথা বিবেচনা করে পেটের তাগিদে কাজে বের হতে গিয়ে সর্দি-কাশি লেগেই থাকছে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে। বেদেপল্লীর গরীব মানুষ তো দিনে আনা দিনে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পাংশায় তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বেদেপল্লীর বাসিন্দারা

প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

আমরা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষ, অসহায়ত্ব ও দারিদ্রতা আমাদের রোজকার জীবনসঙ্গী।আর্থিক অভাব অনটনে থাকায়, তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়, সর্দি, কাশি জ্বরসহ শীতকালীন নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা। দু-চোখ ভরা আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন-রাজবাড়ীর পাংশা আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডের অদুরে অস্থায়ী বেদেপল্লীর বাসিন্দা সীমা বেগম।

এভাবেই মানবেতর জীবন কাটছে বেদেপল্লীটির অন্তত ১০টি পরিবারের। তবে হতদরিদ্র এসব মানুষের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে বেদে পল্লীতে ঘুরে দেখা গেছে, পৌষের কনকনে শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙ্গিয়ে  দিনের পর দিন বসবাস করা মানুষগুলো।

মাটির উপর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট আকারের ছোট্ট একটি তাঁবু টাঙ্গিয়ে তৈরি করা ঘরে পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন অনেকে। বেদে পল্লীর এসব মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, তীব্র শীতে জুবুথুবু অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায়, অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জীবিকার তাগিদে ও কর্মের খোঁজে ছুটে চলা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

বেদেপল্লীর বাসিন্দা লিমা বেগম বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেইরে বাপু, দু-পয়সা দিয়ে কেউ সহযোগিতা করেনা, তীব্র শীতে ছোট তাঁবুর নিচে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে আমাদের জীবনযাপন। কেউ একটু গরম কাপড় নিয়ে আসবে, এই অপেক্ষায় সারাদিন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকি।

বেদেপল্লীর আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে শীত কম ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ছে, সঙ্গে শীতল বাতাস বইছে। জীবিকা তাগিদে বের হওয়া যাচ্ছে না।তারপরও স্ত্রী সন্তানদের কথা বিবেচনা করে পেটের তাগিদে কাজে বের হতে গিয়ে সর্দি-কাশি লেগেই থাকছে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে। বেদেপল্লীর গরীব মানুষ তো দিনে আনা দিনে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি।