নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না
- প্রকাশের সময় : ১১:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / 79
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫’ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার রাতে জারি করা এই আচরণবিধিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী প্রচারণায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা, আর দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।
নির্বাচনী প্রচারে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আরপিও জারি হওয়ায় আচরণবিধি এখন গেজেটে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নতুন আচরণবিধি প্রণয়নে ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মিলিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা পক্ষে অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে চাইলে আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রতিপক্ষ, নারী বা সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা, ধর্মীয় বা জাতিগত উসকানি ব্যবহার করা যাবে না। সব কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক।
প্রচারের সীমাবদ্ধতা ও বিধিনিষেধ
বিদেশে কোনো দল বা প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবে না। একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট। নির্বাচনের দিন কোনো ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদ বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
ব্যানার ও ফেস্টুনে প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কেবল ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলো ব্যবহার করা যাবে, অন্য আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ। প্রচার সামগ্রীতে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।
আচরণবিধি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারাও কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান
আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং চালু হচ্ছে। দেশের ভেতরের তিন ধরনের ব্যক্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন।
আরপিও সংশোধন ও আচরণবিধি জারির মাধ্যমে নির্বাচনী আইন সংস্কারের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।























